সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীল চর্চাই দেশ ও সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপতথ্য ও ভুয়া সংবাদের ভিড়ে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের স্বাধীন, অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে ‘গণমাধ্যম বিষয়ক তিন মাস মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স ২০২৬’-এর নতুন ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে পারে, অন্যদিকে অসত্য তথ্য ও গুজব মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাংবাদিকতার গুণগত মান, তথ্যের সত্যতা যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এআইয়ের যুগে সাংবাদিকতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে ভিসি বলেন, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোর্সেই সেশনজট থাকবে না। একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আনা, সিলেবাস আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনে ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। বিশ্বমানের দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে শিক্ষা উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতানুগতিক সিলেবাস পরিবর্তন করে দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ‘পারফর্মিং আর্টস কলেজ’ স্থাপনের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড. আমানুল্লাহর গতিশীল নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সেশনজট কাটিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে গতি ফিরছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও বিশ্বমানের কোর্স-কারিকুলাম প্রণয়নেও তিনি কাজ করছেন।

পিআইবির সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে দুজন বক্তব্য দেন। এ সময় পিআইবির সমন্বয়ক, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।