কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৩ দিন ধরে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে।

এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থলবন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। অন্যদিকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউস ফাঁকা পড়ে আছে। বন্দরে কোনো ভারতীয় ট্রাকের দেখা মেলেনি। অলস পড়ে আছে পাথর ভাঙার বেল্ট মেশিনগুলো। অধিকাংশ ডিপো পাথরশূন্য। ট্রাক টার্মিনাল খালি পড়ে আছে।

বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যে পাথর দিচ্ছে তা গুণগত মানের দিক থেকে অত্যন্ত খারাপ। এছাড়াও রিভার স্টোন বোল্ডার না দিয়ে দিচ্ছে ছোট পাথর, যা অটোক্রাশ মেশিনের মাধ্যমে ভাঙালে অনেক ছোট হয়ে যাচ্ছে। এতে পাথরের স্বাভাবিক মাপের সঙ্গে না মেলায় কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাথর কিনতে চাচ্ছে না।

স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন গড়ে ১২০টির মতো ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত। কিন্তু গত ২৩ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় ভারত থেকে পাথরবোঝাই একটি ট্রাকও বাংলাদেশে আসেনি।

স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছেন। এর আগে প্রতি টন রিভার স্টোনের দাম ছিল ১১ ডলার, যা বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত খরচ হতো ১ হাজার ২৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে সেই পাথরের দাম বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলার করা হয়েছে। তাতে বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত খরচ পড়ছে ১ হাজার ৬৭০ টাকা। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একতরফাভাবে দাম বৃদ্ধি ও নিম্নমানের পাথর সরবরাহের কারণে ব্যবসায়ীরা গত ১৮ জুলাই থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম জানালেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বর্তমানে যে পাথর দিচ্ছেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এই পাথর দিয়ে কাজের মান খারাপ হওয়ায় কোনো ঠিকাদার পাথর কিনতে চাচ্ছে না।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ব্যাপারী জানান, ভারত থেকে চাহিদামতো পাথর না পাওয়ায় এবং পাথরের মান খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।

সোনাহাট স্থলবন্দর সহকারী পরিচালক আমিনুল হক জানান, দু’দেশের আমদানি ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের কারণে সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।