দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও কর্মসংস্থানমুখী করতে দেশে প্রথমবারের মতো দেশি-বিদেশি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ’ অকুপেশনের টাস্ক অ্যানালাইসিস ও অকুপেশনাল ম্যাপিং কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন শিল্পখাতে চীনা ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবলের চাহিদা বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনা ভাষাকে শুধু ভাষাগত দক্ষতা হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান ও পেশাগত দক্ষতার একটি স্বতন্ত্র অকুপেশন হিসেবে কাঠামোবদ্ধ করার প্রয়োজনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ’ অকুপেশনের সম্ভাব্য কাজের ধরন, দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমবাজারের চাহিদা নিয়ে আলোচনা করা হয়। কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়নের লক্ষ্যে আগামী ১৬-১৯ আগস্ট চার (০৪) দিনব্যাপী ডেভেলপমেন্ট কর্মশালা এবং ২৫ আগস্ট ভ্যালিডেশন কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম প্রণয়নের চূড়ান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হবে এবং পরবর্তীতে এনএসডিএ নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স চালুর সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। সমাপনী সেশনে এনএসডিএ-এর সদস্য, পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট পরামর্শকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নতুন ও সম্ভাবনাময় অকুপেশনে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। চীনা ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। তিনি বলেন, টাস্ক অ্যানালাইসিস ও অকুপেশনাল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে একটি অকুপেশনে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, জ্ঞান ও সক্ষমতা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়। এর ফলে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা মূল্যায়ন ব্যবস্থা (অ্যাসেসমেন্ট) আরও মানসম্মত, শ্রমবাজারমুখী ও শিল্পের চাহিদাভিত্তিক করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, চীনা ভাষায় দক্ষ জনবলের চাহিদা শুধু আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নয়, দেশেও রয়েছে। তাই এ অকুপেশনের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি দক্ষতার যথাযথ স্বীকৃতি ও সনদায়নের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, কর্মশালায় যৌথ সনদ প্রদানের (জয়েন্ট সার্টিফিকেশন) লক্ষ্যে চীনের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর লেভেল ২ ও ৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অকুপেশনের দক্ষতা কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট-এইচএসকে লেভেল ১ ও ২-এর সমমানের হবে।
কর্মশালায় চীনা ভাষা, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উই স্পিক ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন; ঢাকাস্থ ইদাই ইলু চাইনিজ ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল ড. মো. সাদি; শান্তি-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির পরিচালক মো. মহিউদ্দিন তাহের; ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ও কালচারের শিক্ষক ড. রফিকুল ইসলাম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. মো. রাকিবুল হক; চীনের চেংদু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও হাই লেভেল ফরেন এক্সপার্ট ড. মো. আলতাব হোসেন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চাইনিজ ডিরেক্টর ড. ইয়াং হুই; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ; শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি মো. রোজিবুল ইসলাম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুন নাহার; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ শিক্ষক নিলু আক্তার; নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ শিক্ষক মো. শরিফুল হাসান; ইউনিভার্সিটি অব ইলেকট্রনিক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না-এর শিক্ষক ইন শিয়াওহুয়া; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) লেকচারার আগা মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চাইনিজ ডিরেক্টর মা ঝিয়াং অংশগ্রহণ করেন।