ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার ফটোসাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহফুজকে হল থেকে আক্রোশপ্রসূতভাবে বহিষ্কার এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক হীনউদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজ জানান, গত ১৯ জুলাই আর্জেন্টিনা ও স্পেইনের বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা চলাকালে তাঁর সাথে তিনজন অতিথি (পিজি হাসপাতালের দুজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী) হলের অতিথি কক্ষের ওয়াশরুম ব্যবহার করতে যান। এ সময় হলের গেটম্যানের অনুমতি সাপেক্ষে নারী অতিথি ওয়াশরুমে প্রবেশ করলে মাহফুজ বাইরে ব্যাগ ও ফোন নিয়ে ওয়াকওয়েতে অপেক্ষা করছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই মুহূর্তে শাহরিয়ার আহমেদ নীড় জোরপূর্বক সেই ওয়াশরুমে প্রবেশ করতে চাইলে তাঁকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন মাহফুজ। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নীড় গালিগালাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই মাহফুজ হল গ্রুপে পোস্ট করে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
তবে ঘটনার পর থেকেই শাহরিয়ার আহমেদ নীড় ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন অভিযোগ করে মাহফুজ বলেন, বিজয় একাত্তর হলের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দ (২৩-২৪ সেশন) তাঁকে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেন। এমনকি হলের প্রভোস্ট সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুই পক্ষকে বিষয়টি সমাধান করতে বললেও ছাত্রদল সংশ্লিষ্টরা সেখানেও তাঁকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাহফুজ বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাঁকে ৬ মাসের বহিষ্কারের বিষয়ে আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে কোনো ধরনের মারামারি বা লাঠিসোঁটার অস্তিত্ব না থাকলেও কিছু গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁকে 'শিবির কর্মী' হিসেবে ট্যাগ দিয়ে এবং 'লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বহিষ্কার' করার মতো মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শিবিরের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের অন্যান্য হলের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোতে প্রশাসন নীরব থাকলেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক আক্রোশ ও প্রতিহিংসার শিকার বানিয়ে তাঁকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। হলের বাইরে থেকে তাঁর মতো একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আর্থিকভাবে অসম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত না হয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁর ওপর হওয়া অন্যায় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হোক এবং তাঁর হলের সিট ফিরিয়ে দিয়ে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করার সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।