আব্দুর রহমান, বোদা (পঞ্চগড়)

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার চায়ের দোকানির মেয়ে রিমি আক্তার সম্প্রতি ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে ঢাবিতে ভর্তি হয়েছেন রিমি

বিশ্ববিদ্যালয়- একসঙ্গে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হয়েছেন। রিমি আক্তার বোদা পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ভর্তি পরীক্ষায় তার প্রাপ্ত ফলাফল নি¤œরূপ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (বি ইউনিট): ৩৩৮তম (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (বি ইউনিট) ৬৩তম (অর্থনীতি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) মেধাতালিকায় ২৯৮তম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (ডি ইউনিট): ৩৮০তম (ভূগোল), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ডি ইউনিট): ১২২৭তম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (এ ইউনিট): ২০০৯ তম। এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া সত্ত্বেও রিমি তাঁর প্রথম পছন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হয়েছেন। তাঁর বাড়ি বোদা উপজেলার কলেজপাড়ায়। বাবা মো. রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বোদা উপজেলা হাসপাতাল মোড়ে একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার চালান। তার বাবা রবিউল ইসলাম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি চায়ের দোকানি, সংসারে অভাব আছে। কিন্তু মেয়ের পড়াশোনায় কখনো আপোষ করিনি। রিমি আজ একসঙ্গে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে—এটা ভাবতেই বুক ফুলে যায়। গরিবের সন্তানও মেধা দিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে পারে, সেটা প্রমাণ করেছে আমার মেয়ে।” রিমি আক্তার জানান, বাবার ছোট দোকানের আয়েই তার লেখাপড়ার খরচ বহন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ পেয়ে আমি খুব গর্বিত। ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই।” স্থানীয় মনে করছেন, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া রিমির এই সাফল্য বোদা উপজেলার ইতিহাসে বিরল। তার কঠোর পরিশ্রম ও বাবার আত্মত্যাগ আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।