পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে এগ্রিকালচারিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)।

এর অংশ হিসেবে রোববার (২৩ আগস্ট) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারা বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বারি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার-এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ভোলা-৪ আসনের এমপি মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন, জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাজীপুর-২ আসনের এমপি এম মঞ্জুরুল করিম রনি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক কৃষিবিদ আতিকুর রহমান মিঠুসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কৃষিবিদরা।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রধান অতিথি জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না, রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, কৃষি ও পরিবেশের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, বন উজাড় রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে। একটি গাছ লাগানোর পর সেটিকে পরিণত বৃক্ষে পরিণত করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বারি ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। পরে স্থানীয় শিশু শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এ্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।