লেজার লাইটে লক্ষ্য করে হামলা, গুলির শব্দে আতঙ্কিত নেতা হাসপাতালে। রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ গুলির শব্দ। তার আগেই কার্যালয়ের ভেতরে থাকা কৃষকদল নেতা মো. জজ মিয়ার দিকে পড়ছিল লেজার লাইটের আলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে মোটরসাইকেলে করে সটকে পড়ে তিন ব্যক্তি। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন জজ মিয়া। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আক্রান্ত ব্যক্তি মো. জজ মিয়া (৫০) গাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি। জজ মিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, রাতে নিজের কার্যালয়ে ছিলেন তিনি। হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে তিন ব্যক্তি সেখানে এসে অবস্থান নেয়। তাদের একজন বা একাধিক ব্যক্তি লেজার লাইট দিয়ে তার দিকে আলো ফেলতে থাকে। এরপর তাকে লক্ষ্য করে ২ থেকে ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। গুলির শব্দের পরপরই মোটরসাইকেলটি দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।
আচমকা এই ঘটনায় ভীত হয়ে পড়েন জজ মিয়া। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফরিদপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়। মহাসড়কের পাশে রাতের বেলায় এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গুলির ঘটনার খবর পাওয়ার পর শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম এবং শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলমসহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে।
পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করে। হামলাকারীরা কীভাবে ঘটনাস্থলে এসেছিল এবং কোন পথে পালিয়েছে, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
জজ মিয়াকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়েছে কি না এবং এ ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে কি না—তদন্তে এসব বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, লেজার লাইট দিয়ে তাকে লক্ষ্য করার পর গুলি ছোড়া হয়েছে। ফলে ঘটনাটি নিছক ভয় দেখানো, নাকি আরও বড় কোনো উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছিল-তা নিয়েও এলাকায় আলোচনা চলছে।
শ্রীপুর থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।