সিরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন জাতীয় কমিটির আয়োজনে এবং সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনায় এক আলোচনা সভা, হামদ-নাত ও গজল সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ শে আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকার বেইলি রোডস্থ বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশবরেণ্য শতাধিক শিল্পী ও শিশু-কিশোরদের হামদ-নাত ও গজলের সুরেলা কণ্ঠে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অডিটোরিয়াম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব এবং সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি মাহবুব মুকুল। সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সেক্রেটারি আল্লামা ইকবালের উপস্থাপনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও ইসলামিক স্কলার প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক ও বক্তা শায়খ আলী হাসান উসামা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেন, "হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনব্যাপী মানবতার কল্যাণের জন্য কাজ করে গেছেন এবং মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি দরিদ্র অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে দরিদ্র অবস্থাতেই ইন্তেকাল করেছেন। মহানবী তাঁর পার্থিব ভাগ্যের পরিবর্তনের কোনো তৎপরতা না চালিয়ে তিনি কেবল মানবতার মুক্তির মিশন নিয়ে এগিয়ে গেছেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় মহানবী (সা.)-এর নাম সবার উপরে এবং তাঁর জীবন আদর্শই আমাদের একমাত্র অনুসরণীয় পথ।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শায়খ আলী হাসান উসামা বলেন, "মানুষের মুক্তি এবং মানবতার কল্যাণের জন্য যত গুণের প্রয়োজন, তার সবই আল্লাহর ইচ্ছায় ধারণ করতে পেরেছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটি দিক ও বিভাগে তিনি ছিলেন একজন পরিপূর্ণ মানুষ। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠিত আদর্শই কেবল মানবজাতিকে প্রকৃত মুক্তি দিতে পারে।"
অনুষ্ঠানের আকর্ষণীয় পর্ব হামদ-নাত ও গজল সন্ধ্যায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন দেশবরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী মনির খান, আবু বকর সিদ্দিক এবং আগুন, শিল্পী আমিরুল মোমেনীন মানিক, মহানগর শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমী, সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী, অনুপম সাংস্কৃতিক সংসদ, সওগাত সাংস্কৃতিক সংসদ, ডিভাইন কালচারাল একাডেমির শিল্পীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শতাধিক শিল্পী। কিশোর শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত জাহিন ইকবাল মাহির মাহমুদ এবং শিল্পী আহানাফ আদিল শাফী। পাশাপাশি শিশু-কিশোর শিল্পীদের সম্মিলিত কোরাস হামদ-নাত উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে বিমোহিত করে।