দুই স্টেশনে বিপজ্জনক কিছু নেই, মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া বোমা সদৃশ বস্তুর কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মতিঝিলে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের ঘটনার সঙ্গে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটে উদ্ধার হওয়া বোমা সদৃশ বস্তুর কোনো ধরনের সম্পর্ক বা যোগসূত্র এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটে কী পাওয়া গেছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া ব্যাগে পান, জর্দাসহ কিছু সাধারণ জিনিসপত্র ছিল। সেখানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। আর ফার্মগেটে পাওয়া বস্তার মধ্যে ছিল পরিত্যক্ত ময়লা-আবর্জনা। তাই এ দুটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বা কোনো অপরাধী চক্র জড়িত কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।

এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জঙ্গিবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শামসুল হক বলেন, ওই ঘটনায় পুলিশ, সিটিটিসি ও ডিবি যৌথভাবে কাজ করছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে। বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়া বা ক্যামেরা বন্ধ থাকার প্রশ্নে সিটিটিসি প্রধান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ই তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে।

রাজধানীজুড়ে বোমা আতঙ্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া গেলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। তবে, গুজব বা অযথা আতঙ্ক ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, সিটিটিসির মূল দায়িত্ব সন্ত্রাসবাদ দমন। পাশাপাশি সাইবার, কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বিভিন্ন ইউনিট জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

এর আগে, সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, শনিবার মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশন ও ফার্মগেট এলাকায় বোমা সদৃশ বস্তু থাকার খবর পাওয়ার পরপরই সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অত্যাধুনিক সরঞ্জামের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো কোনো বিস্ফোরক নয়। মিরপুর-১০ স্টেশনে পাওয়া ব্যাগে পান, সুপারি, জর্দাসহ সাধারণ কিছু সামগ্রী ছিল। আর ফার্মগেটে পাওয়া বস্তার মধ্যে ছিল পরিত্যক্ত ময়লা-আবর্জনা। ফলে জননিরাপত্তার জন্য কোনো ধরনের হুমকি বা ঝুঁকির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এর আগে, মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাও সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিট পেশাদারত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে বলে জানান তিনি। কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা কার্যকলাপ দেখলে তা স্পর্শ না করে নিরাপদ দূরত্বে থেকে দ্রুত নিকটস্থ থানা, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।

মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক

রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা সদৃশ পরিত্যক্ত বস্তু দুটি বোমা নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ফলে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য নগরবাসীকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে বোমাসদৃশ বস্তু রয়েছে— এমন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সন্দেহজনক ব্যাগটি এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করলে এর ভেতরে কৌটাসদৃশ একটি ইমেজ দেখা যায়।