জুলাইয়ের দেনা-পাওনা নিয়ে দৈনিক সংগ্রামের সাথে কথা বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব ও বর্তমানে ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম। তিনি ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ এর জুলাইয়ের মূল্যায়ন নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন, ২০২৪ইং সালের জুলাইতে আমরা দুই ধরণের সাংবাদিকতা দেখেছি। একটা হলো অকুতোভয় সাংবাদিকতা। তারা হলো ইয়াং জেনারেশন। আরেকটা সাংবাদিকতা দেখেছি তা হচ্ছে দোসরিপনা; যারা টাকা-পয়সার কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। আমার মূল্যায়ন হচ্ছে জুলাইয়ের পর সেই সাংবাদিকতা অর্থাৎ দোসরিপনা সাংবাদিকতা আস্তে আস্তে কমছে। যদিও তাদেরকে অনেক টেলিভিশন সুযোগ দিচ্ছে। অনেক টেলিভিশন তাদের টকশোগুলোতে ডাকছেন। আমার অ্যাসেসমেন্ট হচ্ছে এটাও বেশিদিন টিকে থাকবে না। এর ধারাবাহিকতাকেও আমি চিরস্থায়ী মনে করি না। আমি এটাই মনে প্রাণে বিশ্বাস করি এই বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করবে জুলাই। বাংলাদেশের জার্নালিজমকেও তৈরি করবে জুলাই। জুলাইয়ের আকাঙ্খা, স্পিরিট, ইন্সপাইরেশন, ঋণ সবকিছুকে ধারণ করবে বাংলাদেশ। আগামী দিনেও বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ার যে লড়াই, সেই লড়াইয়ে জুলাইয়ের সাংবাদিকরাও থাকবে। দু’একজন দোসর এখনো আছে। প্রত্যেক সোসাইটিতে দু-একজন এমন থাকে। একটা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নাই।

বর্তমানে মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বিশেষ করে ইলেট্রানিক মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিদের সমালোচনা করে শফিকুল আলম বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে তাদের কারা প্লাটফর্ম দিচ্ছে। প্লাটফর্ম দিচ্ছে আমাদের টিভিগুলো; যারা সত্যিকার অর্থে জনগণকে ধোকা দিচ্ছে। বাংলাদেশের এমন কোন টিভি নাই যে এদের ডাকে না। এবিষয়ে দুই মাস পর পর একটি লিস্ট হয়। কারা কারা এদের সবচেয়ে বেশি ইনভাইটেশন দিয়েছে। টিভিগুলো একাজটি করছে এবং নির্লজ্জভাবে কাজটি করছে। অর্ন্তবর্তী সরকারও এগুলো বন্ধ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, জনগণের আকাক্সক্ষা ছিল, এদের বন্ধ করে দেওয়া। কিন্তু আমরা মনে করেছি, আমরা ফ্রিডম অব স্পিচে বিশ্বাসী, মানুষ স্বাধীনভাবে তার স্পিচকে ব্যবহার করবে। জাতি গঠনে সহযোগিতা করবে। তবে মূল ঘটনা হলোÑযতই এদের জায়গা দেওয়া হয়েছে, ততই তারা পেয়ে বসেছে। এমনকি এদের এতো বড় দুঃসাহস যে জুলাইকে পর্যন্ত তারা প্রশ্ন করার সাহস পায়। তারপরও তাদেরকে আনতে হবে বলে যুক্তি দেখায়। কিন্তু সরি ভাই, তাদের আনার দরকার নাই। এরা যতদিন না এরা তাদের দোসরিপনার জন্য ক্ষমা চাচ্ছে; ততদিন তাদের মেইনস্ট্রিম করার দরকার নেই। আমাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের খুন করা হয়েছে, সেই বিষয় নিয়ে মব করবেন? সরি! আপনার সাথে আমার কোন লেনদেন নাই।

ফ্যাসিস্ট আমলের কিছু সাংবাদিকের নিষ্ঠুরতা উদাহরণ টেনে শফিকুল আলম আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের দোসর সাংবাদিকদের ব্যাপারে অনেকে সংশোধনের কথা বলেন অনেকে। আমি এগুলো মনে করি না। আরে ভাই আপনিতো অনুশোচনা-ই করেননি। আপনার আবার কিসের সংশোধন। এই জায়গাগুলোতে আমার মনে হয় প্রথমত দায়ী হচ্ছে আমাদের টিভিগুলো। টিভিগুলো এদের প্লাটফর্ম দিচ্ছে। ভাইরে এটা কিন্তু এটা একটা বড় ইস্যু। আমরা জানি ফেসবুককে অনেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশের যতগুলো বড় বড় সহিংসতা হয়েছে; তার পেছনে দেখা গেছে ফেসুবকের উস্কানি। এটাতো একটা প্লাটফর্ম। প্লাটফর্মেরতো দায় রয়েছে। ওখানে কেউ একটা মিথ্যা নিউজ ছেড়ে দিলো আর আর সেটা নিয়ে একটা রায়ট হয়ে গেল। এজন্যতো ফেসবুকের দায় রয়েছে। ফেসবুক কিন্তু এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। ঠিক তেমনি যারা টিভিগুলোতে দিনের পর দিন যারা ফ্যাসিস্ট সাংবাদিকদের নিয়ে আসছে, তারা মূলত নিরবে স্বৈরাচারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এদের বিষয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।

প্রসঙ্গত, জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সরকারের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন শফিকুল আলম। এর আগে তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিতে কর্মরত ছিলেন।