ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলছে। তারা কীভাবে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়, তার ওপর যুক্তরাজ্য নজর রাখবে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথেও কাজ করছে বলে জানান তিনি। হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা পরিস্থিতি বিশ্বের জ্বালানি খাতকে অস্থির করে তুলেছে বলেও জানান সারাহ কুক।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের উদ্দ্যোগে আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস।

হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা গভীর ও জোরদার করতে চায়। এছাড়া গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সহযোগিতার মাধ্যমে গভীর, বহুমাত্রিক, ভবিষ্যৎমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়তে চায়।

সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশে এখন সংসদ বলবৎ আছে। জনগণ ভোট দিয়েছে। একটি সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর আছে। সংসদে এমপিরা তর্ক করে, বিতর্ক করে সংস্কার এবং জুলাই সনদের বিষয়ে সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত নেবে। জনসম্মুখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ বিষয়ে বলা উচিত নয়। বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থকে বিবেচনা করে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানো নিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ২০২৫ সালের জুন থেকে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশী ব্যক্তিদের ২৫ কোটি পাউন্ডের বেশি সম্পদ জব্দ করেছে। এটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার অখ-তা এবং আইনের শাসন বজায় রাখার প্রতি যুক্তরাজ্যের দৃঢ় প্রতিজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, জব্দ হওয়া সম্পদ ফেরত আনার বিষয়টি একটি আইনি প্রক্রিয়া। আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করতে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এটি এমন কিছু নয় যা রাতারাতি ঘটে যেতে পারে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ হওয়া অর্থ ফেরাতে হবে।

সারাহ কুক জানান, এই ধরনের আর্থিক অপরাধ দমনে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাজ্য এই গ্রীষ্মে লন্ডনে একটি ‘ইলিসিট ফিন্যান্স সামিট’ (অবৈধ অর্থায়ন বিষয়ক সম্মেলন) আয়োজন করবে, যেখানে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যারা যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নিয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে সারাহ কুক বলেন, যুক্তরাজ্য কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে না।

সংস্কার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য সরকারকে যুক্তরাজ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংস্কার ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে সারাহ কুক বলেন, এই সংঘাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত। যুক্তরাজ্য এই সংঘাত নিরসনে পর্দার আড়ালে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।