দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা সেবা যাতে আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিন গতকাল মঙ্গলবার প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম তার লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা সেবা বৃদ্ধির জন্য সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? থাকলে, তা কী?

জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তথাপি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা সেবা যাতে আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।

থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ থানায় মামলা বা জিডি করতে গিয়ে যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই পদক্ষেপ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।

সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ থানায় মামলা বা জিডি করতে গিয়ে যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।

‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পর চাঁদাবাজি হ্রাস পেয়েছে

‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার ফলে এ সকল অপরাধ অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে এ কথা জানান। সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান তার প্রশ্নে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর কর্তৃক সরকারি দলের কিছু অসাধু লোকের সহায়তায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকা- পরিচালনার বিষয়ে আপনি অবগত কিনা? থাকলে, আইনশৃংখলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা? হলে, কবে নাগাদ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?

জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকা- ঘৃণ্য অপরাধ, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একটি দেশের উন্নয়নে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ মুক্ত সমাজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার একটানা দীর্ঘ ১৫ বছরের অধিক সময় ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনী ভূমি দখল, জল, বালু মহাল দখল, বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকা-ের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বর্তমান সরকার এ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার ফলে এ সকল অপরাধ অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মন্ত্রী জানান, রাজশাহী-১ আসন এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে ওই এলাকার জনগণ স্বস্তিতে বসবাস করছে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে সরকার বদ্ধ পরিকর।

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত ২ বাংলাদেশীর লাশ ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় নির্মমভাবে নিহত দুই বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

জাতীয় সংসদে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ, ই, সুলতান মাহমুদ বাবুর করা এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। টেবিলে প্রশ্নোত্তর পর্বটি উত্থাপিত হয়।

ড. খলিলুর রহমান সংসদকে জানান, ওই দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ফ্লোরিডায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা নিহতদের শোকার্ত পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নিহত শিক্ষার্থীদের দেহাবশেষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে সরকারের বিশেষ তদারকিতে রয়েছে।

ভারতীয় ভিসা নিয়ে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা প্রাপ্তি সহজতর হওয়া এবং বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে শিগগিরই তা স্বাভাবিক হওয়ার সুখবর দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর ইকবালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের এমন অবস্থান ও আশাবাদের কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও সংহতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে অভিন্ন মূল্যবোধ, ঐতিহাসিক সংযোগ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সুদৃঢ় বন্ধন। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সার্বভৌম সমতা, ন্যায্যতা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান সংসদকে অবহিত করে জানান, ভারতের সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজতর করতে সরকার ইতোমধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ভারত সফরে সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক ভিসার প্রক্রিয়া পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুতই ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।