মো. আলতাফ হুসাইন

বাংলাদেশকে ‘ক্যাশলেস’ বা নগদবিহীন লেনদেনের সংস্কৃতিতে রূপান্তর করতে বাংলা কিউআর (Bangla QR) কোড এক বড় বিপ্লব ঘটিয়েছে। এই ধারায় প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের আওতায় এনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।

বাংলা কিউআর কোড লেনদেন, শরিয়াহ সম্মত ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মুহাম্মদ নূরে আলমের সাথে কথা বলেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আলতাফ হোসেন। সাক্ষাৎকারটির মূল অংশ পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো:

দৈনিক সংগ্রাম: মার্চেন্ট সম্প্রসারণে শীর্ষে থাকার অভিজ্ঞতা— বাংলা কিউআরে সর্বোচ্চ মার্চেন্ট যুক্ত করার দৌড়ে ইসলামী ব্যাংক শীর্ষ তালিকায় রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফুটপাতের দোকানিদের ইসলামী ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে বাংলা কিউআরে আনায় মূল চালিকাশক্তি কোনটি ছিল?

মো. আলতাফ হুসাইন: আমাদের মূল চালিকাশক্তি হলো দেশের সর্বস্তরের মানুষকে নিরাপদ ও আধুনিক আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসার দৃষ্টিভঙ্গি। প্রান্তিক ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ফুটপাতের দোকানদাররা এতদিন প্রথাগত ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আমরা আমাদের মোবাইল অ্যাপ (CellFin) ও এমক্যাশ এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ককে অত্যন্ত সহজ ও সহজবোধ্য করে তৈরি করেছি। আমাদের ব্যাংকের এজেন্ট নেটওয়ার্ক ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সরাসরি এসব ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়েছেন, বাংলা কিউআরের সহজ ব্যবহারের নিয়ম বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত খরচ বা জটিলতা ছাড়াই তাদের অ্যাকাউন্ট খুলে কিউআর কোড প্রদান করেছেন। স্বল্প খরচে দ্রুততম সময়ে লেনদেনের এই সুবিধাই তাদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করেছে।

দৈনিক সংগ্রাম: শরিয়াহ সম্মত ডিজিটাল লেনদেন— শরিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় বাংলা কিউআরের লেনদেন গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে কীভাবে ভূমিকা রাখছে?

মো. আলতাফ হুসাইন: ইসলামী ব্যাংক তার শুরু থেকেই প্রতিটি কার্যক্রমে পুরোপুরি শরিয়াহ নীতি অনুসরণ করে আসছে। সাধারণ মানুষের মাঝে একটি বড় প্রত্যাশা থাকে যে, তাদের ডিজিটাল লেনদেনও যেন সম্পূর্ণ শরিয়াহ সম্মত ও সুদমুক্ত হয়। আমরা আমাদের বাংলা কিউআর লেনদেন প্রক্রিয়াকে শরিয়াহ বোর্ডের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ডিজিটালভাবে সুসংহত করেছি। এতে গ্রাহকরা নিশ্চিত থাকেন যে, তাদের প্রতিটি কেনাকাটা বা অর্থ লেনদেন নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং শরিয়াহ নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ধর্মীয় ও নীতিগত বিশ্বাসই ডিজিটাল মাধ্যমে আমাদের গ্রাহকদের আস্থা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

দৈনিক সংগ্রাম: P2P প্রস্তুতি— ১লা নভেম্বর থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে (P2P) লেনদেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের বিশাল গ্রাহকভিত্তিক অবকাঠামো (Customer Base) এটি ব্যবহারে কতটা প্রস্তুত?

মো. আলতাফ হুসাইন: আমরা প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত দিক থেকে পুরোপুরি প্রস্তুত। ইসলামী ব্যাংকের সুবিশাল গ্রাহকভিত্তি আমাদের অন্যতম বড় শক্তি। আমাদের ‘সেলফিন’ (CellFin) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে যেকোনো বিপুল পরিমাণ লেনদেনের চাপ (Transaction Load) অনায়াসে সামলাতে সক্ষম। ১লা নভেম্বর থেকে যখন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P) পর্যায়ে বাংলা কিউআর লেনদেন চালু হবে, তখন আমাদের গ্রাহকরা অত্যন্ত সহজে, দ্রুত এবং কম খরচে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে কিউআর স্ক্যান করেই টাকা পাঠাতে পারবেন। আমাদের সার্ভার ও সিকিউরিটি সিস্টেমকে সেভাবেই হালনাগাদ করা হয়েছে।

দৈনিক সংগ্রাম: ক্যাশলেস রিটেল ব্যাংকিং— দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ খুচরা ব্যবসায়ীদের নগদ লেনদেনের পরিবর্তে বাংলা কিউআরে অভ্যস্ত করতে ব্যাংক থেকে কোনো বিশেষ প্রোদগারি বা ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে কি?

মো. আলতাফ হুসাইন: হ্যাঁ, অবশ্যই। গ্রামীণ খুচরা ব্যবসায়ীদের নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমাতে আমরা দেশব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও প্রোদগারি ক্যাম্পেইন চালু করেছি। আমাদের শাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে নিয়মিত ‘বাংলা কিউআর মেলার’ আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিতে ক্যাশব্যাক সুবিধা, মার্চেন্টদের জন্য বিশেষ রেওয়ার্ড পয়েন্ট এবং কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে সহজে ক্ষুদ্র ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধার অফার দেওয়া হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রচার ও সরাসরি সহযোগিতার মাধ্যমে গ্রামগঞ্জের প্রতিটি খুচরা দোকানকেও আমরা খুব শীঘ্রই ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব।