শুধু পরিবেশের অঙ্গনে নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও দূষণের মাত্রা বেড়েই চলছে। তবে মাত্রা বিবেচনায় ভারতের রাজনীতি এখন বিশেষভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আসলে বিজেপি’র দাপট অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক দূষণের মাত্রা হ্রাসের সম্ভাবনা কম। পশ্চিমসবঙ্গের দিকে তাকালেই বিষয়টি সহজে উপলব্ধি করা যাবে। যে পশ্চিমবঙ্গ এক সময় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, সেই পশ্চিমবঙ্গে এখন সাম্প্রদায়িক উগ্রতা ও জুলুমের তাণ্ডব চলছে অব্যাহতভাবে। নির্বাচনে বিজেপি’র বিজয়লাভের পর এসব দৃশ্য প্রকট হয়ে উঠেছে। এ কারণেই হয়তো পশ্চিমবঙ্গে চার হাজার মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার বিষয়টি সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছে।

মসজিদের মাইকে আসলে কি করা হয়? এসব মাইকে কি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে গান-বাজনা, বক্তৃতা বা বিরক্তিকর কোনো প্রচারণা চালানো হয়? মসজিদের মাইকে বরং ২৪ ঘণ্টায় ৫ বার সালাতে আসার আহ্বান জানানো হয়। যার সময়সীমা প্রতিবার ৩ থেকে ৪ মিনিট। আর আজানের শব্দগুলোই শুধু শাশ্বত নয়, এর সুর ও ব্যঞ্জনাও বেশ শ্রুতিমধুর। স্বল্পসময়ের এই আজানে তো কারো বিরক্তিবোধ করার কথা নয়, মাইক খুলে নেওয়ার কথাও নয়। তবে যাদের মানসগঠনে সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রতা রয়েছে, বিকৃতি রয়েছে, তাদের কথা আলাদা। শুধু আজানের ক্ষেত্রে নয়; সামাজিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও ওদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। লিখিত নোটিশ ছাড়াই এভাবে মাইক খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মুসলিম সমাজের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক সময় কলকাতা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় জুমার দিন মসজিদে জায়গা না পেলে মুসল্লিরা রাস্তায় নামায আদায় করতেন। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই সুযোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ায় শুক্রবার কলকাতা ও আশেপাশের বহু মসজিদ থেকে জুমার আজান শোনা যায়নি। এতে অনেক মুসল্লি সময়মতো নামাযে অংশ নিতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে মুসলিম সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কলকাতা পার্ক সার্কাস এলাকার স্থানীয় এক ইমাম বলেন, মসজিদের মাইক খুলে নিয়ে আমাদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমাদের সব সহ্য করতে হবে, কারণ আমাদের কিছু করার নেই। মুসলিমদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, শনিবার আমাদের স্বাধীনতা দিবস। আপনারা সবাই নিজ নিজ বাড়িতে জাতীয় পাতাক উত্তোলন করবেন। না হলে এই সরকার খুব সহজেই দেশদ্রোহীর তকমা দিতে পারে। এদিকে মসজিদের মাইক অপসারণের বিষয়টি ইতোমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে গড়িয়েছে। মামলার আইনজীবী কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই মৌখিত নির্দেশে পুলিশের সহায়তায় রাজ্যের প্রায় চারহাজার মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বিচারপতি ভগবতী প্রসাদ বন্দোপাধ্যায়ের আগের একটি রায়ের প্রসঙ্গ তুলে মসজিদগুলোতে পুনরায় মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। একই সঙ্গে ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও তোলেন। তিনি জানান, শুধু হুগলির চাঁপদানি এলাক থেকেই অন্তত ১০০টি মসজিদের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ তো হলো কিন্তু ইনসাফ কি পাওয়া যাবে? সংবিধান সমুন্নত হবে কী?