যুদ্ধ মানুষের কাক্সিক্ষত বিষয় নয়। এ কারণেই যুদ্ধমুক্ত পৃথিবীর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আর বর্তমান সময়ে ট্রাম্পরা যে ধরনের আগ্রাসী যুদ্ধ চালাচ্ছেন, তাতো অতীব মন্দ বিষয়। তবে প্রশ্ন জাগে, যুদ্ধে তারা কি লাভবান হচ্ছেন? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইরান যুদ্ধ এবং নিজ দেশে জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। তার জনসমর্থনের পারদ নেমেছে ৩৩ শতাংশে। এটি তার বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন হার। রয়টার্স-ইপসোসের করা জরিপে উঠে এসেছে এ তথ্য। জরিপে আরো বলা হয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন দেশটির বিশাল জনগোষ্ঠী। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই জরিপে ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, দেশের অর্ধেকেরও কম মানুষের সমর্থন নিয়ে ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় দফায় ফেরেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিত্র ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানের ওপর হামলা চালায় আমেরিকা। আর এই যুদ্ধই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। যুদ্ধের কারণে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেলবাণিজ্য অচল হয়ে পড়ে। এতে বিশ্বব্যাপী বেড়ে যায় তেলের দাম। যার আঁচ লাগে আমেরিকার জনজীবনেও। বিষয়টি চাপে রেখেছে রিপাবলিকানদেরও। কারণ আগামী নবেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা নিয়ে তারা বেশ চিন্তিত। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধ মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে। কিন্তু ইরান দৃঢ়তার সাথে তার সমর্থের পরিচয় দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেলপরিবহন বন্ধ রেখেছে এবং যুদ্ধ এখনো থামেনি।
জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ আমেরিকান- যাদের ৮৭ শতাংশ ডেমোক্রেট এবং ৭১ শতাংশ রিপাবলিকান, তারা মনে করেন ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। মাত্র ১৬ শতাংশ বলছেন, এ সংঘাত সম্ভত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তবে জনমত জরিপ ও জ¦ালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে ১৪ আগস্ট এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, একটি দেশের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি আটকাতে জ¦ালানির পেছনে ‘সামান্য কিছু অর্থ’ ব্যয় করা মোটেও ভুল কিছু নয়। ইরান যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতি আরো খারাপ করার হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো শান্তি চুক্তি আসন্ন বলে দাবি করেছেন। সর্বশেষ রয়টার্স-পিসোসের করা জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন আমেরিকানের মধ্যে মাত্র একজন মনে করেন ইরান যুদ্ধ সঠিক ছিল। তাহলে বেঠিক কাজটি কেন করতে গেলেন ট্রাম্প? যুদ্ধ তো কোনো ছেলেখেলা নয়। এর পরিণতি আছে, ফলাফল আছে। এ যুদ্ধের কারণে শুধু যে আমেরিকা ও ইরানের জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তা কিন্তু নয়। জ¦ালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে বিশ্বের দ্রব্যমূল্যেÑ ফলে বিশ্বজনমত ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আর ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করার মত কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না বিশ্বের মানুষ, যেমনটি পায়নি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও। বরং গাজা যুদ্ধের মত ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধেও ঘৃণা পোষণ করে বিশ্বের মানুষ। তাহলে কেন এই আগ্রাসী যুদ্ধ। অনর্থের এই যুদ্ধ শুধু ট্রাম্পকেই খেলো করেনি, ইমেজ নষ্ট করেছে বিশাল দেশ যুক্তরাষ্ট্রেরও। কেন এমন কাণ্ড ঘটালেন মিস্টার ট্রাম্প, এর কোনো জবাব আছে কি তার কাছে?