তৌহিদুর রহমান

(গত সংখ্যার পর)

নজরুল ইন্সটিটিউট আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘নজরুল-জীবনী রচনার সমস্যা’ প্রবন্ধ পাঠ। সভাপতি : ড. রফিকুল ইসলাম। স্থান : নজরুল ইন্সটিটিউটের সেমিনার কক্ষ, ঢাকা, ১৯৯৮। বাংলা একাডেমী আয়োজিত একুশের অনুষ্ঠানমালায় ‘জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধার্ঘ্য : জীবনানন্দ দাশ : জীবন ও সাহিত্য’ প্রবন্ধ পাঠ। সভাপতি : জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী। স্থান : বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ, ১৯৯৯। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উচচতর মানববিদ্যা গবেষণাকেন্দ্র’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘জীবনানন্দ দাশ : নতুন আবি®কৃত রচনাগুচ্ছ’ প্রবন্ধ পাঠ। সভাপতি : ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। স্থান : উচ্চতর মানববিদ্যা গবেষণাকেন্দ্রের লেকচার থিয়েটার, ১৯৯৯। জাতীয় পর্যায়ে নজরুল-জন্মশতবার্ষিক অনুষ্ঠানে ‘শতবর্ষের মূল্যায়ন: জীবন’ প্রবন্ধ পাঠ। সভাপতি : ড. রফিকুল ইসলাম। স্থান : সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা, ১৯৯৯। জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত নজরুল-জন্মশতবার্ষিক অনুষ্ঠানে ‘কবি নজরুল, কমরেড মুজফফর আহমদ ও কবি আবদুল কাদির’ প্রবন্ধ পাঠ। সভাপতি : ড. মুস্তাফা নুরউল ইসলাম। স্থান : জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা, ১৯৯৯। হাবীবুল্লাহ বাহারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে মূল প্রবন্ধ পাঠ। সভাপতি : কবি আবুল হোসেন। স্থান : সিরডাপ মিলনায়তন, ঢাকা, ২০০৬। বাংলা একাডেমী আয়োজিত একুশের অনুষ্ঠানমালায় ‘বিশ শতকের চিন্তাধারা : এস. ওয়াজেদ আলী’ প্রবন্ধ পাঠ। সভাপতি : আলাউদ্দিন আল আজাদ। স্থান : বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ, ঢাকা, ২০০৬।

আবদুল মান্নান সৈয়দকে উৎসর্গীকৃত গ্রন্থ: মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহর প্রবন্ধগ্রন্থ : নজরুল-কাব্যের শিল্পরূপ (১৯৭৩), মাহবুব সাদিকের কবিতাগ্রন্থ : সন্ধ্যার স্বভাব (১৯৯৬), আখতার-উন-নবী অনূদিত গল্পগ্রন্থ : সেই মেয়েটি (১৯৭৯), আল মাহমুদের কবিতাগ্রন্থ : অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না (১৯৮২), নূরউল করিম খসরুর প্রবন্ধগ্রন্থ : সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ছোটগল্প : বিষয়-আশয় (১৯৮৩), আলাউদ্দিন আল আজাদের কবিতাগ্রন্থ : আমি যখন আসবো (১৯৮৪), ফারুক মাহমুদ-সম্পাদিত : ধোলাই কাব্য (১৯৮৬), কবি আবদুস সাত্তার অনূদিত নাটক : সম্রাটের দ্বন্দ্ব (১৯৮৭), আবদুল আজীজ আল আমান সম্পাদিত : অপ্রকাশিত নজরুল (১৯৮৯), শামসুল ইসলামের কবিতাগ্রন্থ : নষ্ট চন্দ্রার চাঁদ (১৯৮৯), রিফাত চৌধুরীর কবিতাগ্রন্থ : মেঘের প্রতিভা (১৯৯০), তৌহিদ আহমেদের কবিতাগ্রন্থ : তেলাপিয়দের অসুখ-বিসুখ (১৯৯০), ড. এনামূল হকের কবিতাগ্রন্থ : আত্মবিশ্বাসের চিতাবাঘ (১৯৯০), হাসান আলীমের কবিতাগ্রন্থ : মৃগনীল জোছনা (১৯৯০), আলী ইমমের প্রবন্ধগ্রন্থ : প্রিয় প্রসঙ্গ (১৯৯০), বজলুল করিম বাহারের প্রবন্ধগ্রন্থ : সমকালীন কবিতার দিকবলয় (১৯৯০), আবিদ আজাদের কবিতাগ্রন্থ : আবিদ আজাদের কবিতা (১৯৯১), মোশাররফ হোসেন খানের কবিতাগ্রন্থ : বিরল বাতাসের টানে (১৯৯১), কবি আবদুস সাত্তারের প্রবন্ধগ্রন্থ : নজরুল-কাব্যে আরবী ফারসী শব্দ (১৯৯২), ফররুজ্জামান চৌধুরী অনূদিত উপন্যাস : বিকিকিনির প্রেম (১৯৯২), শশী হকের কবিতাগ্রন্থ : অবিশ্রান্ত শ্রাবণ (১৯৯৩), কাজল শাহনেওয়াজের গল্পগ্রন্থ : কাছিমগালা (১৯৯৩), মোহাম্মদ মোরশেদ আলীর কবিতাগ্রন্থ : মিছিলে মিছিলে সাড়া (১৯৯৪), I have seen the Ben- gal’s face : Poems from Jibanananda Das : Edited by Faizul Latif Chowd- hury. ১৯৯৫. মুহাম্মদ আবদুল বাতেনের কবিতাগ্রন্থ : অশ্বারোহী মেঘ (১৯৯৬), নাসির হেলালের ছড়াগ্রন্থ : আগুন ঝরা ছড়া (১৯৯৬), আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের নাটক : যুদ্ধযাত্রা (১৯৯৭), নিজাম সিদ্দিকীর উপন্যাস : প্রজপতি মন (১৯৯৭), মুস্তফা আনোয়ারের কবিতাগ্রন্থ : রসাতল ও মরিয়ম (১৯৯৮), আবুল হুসাইন জাহাঙ্গীরের গল্পগ্রন্থ : নির্বাচিত গল্প (১৯৯৯), আজহার ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ : চিরায়ত সাহিত্যভাবনা (১৯৯৯), খৈয়াম কাদেরের কবিতাগ্রন্থ : পারদ বিশ্বাস (১৯৯৯) আসাদুল হকের প্রবন্ধগ্রন্থ : নজরুল যখন বেতারে (১৯৯৯), আতাহার খানের কবিতাগ্রন্থ : এই জলকণা নাও নদী (২০০০), ড. মেসবাহউদ্দীন আহমেদ অনূদিত ও সম্পাদিত : এগারোটি ক্লাসিক সাইন্স ফিকশন (২০০০), তপোধীর ভট্টাচার্যের প্রবন্ধগ্রন্থ : জীবনানন্দ : কবিতার সংকেতবিশ্ব (২০০১), সাজজাদ হোসাইন খানের কিশোরতোষ গদ্যগ্রন্থ : দুই কাননের পাখি (২০০১), শাহাবুদ্দীন নাগরীর কবিতাগ্রন্থ : মধ্যরাতে নায়ে দিলাম চুমো (২০০১), আনওয়ার আহমদের কবিতাগ্রন্থ : অন্ধ-অন্ধকার (২০০১), আহমাদ মাযহারের প্রবন্ধগ্রন্থ : আধুনিকতা : পক্ষ-বিপক্ষ (২০০১), মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর প্রবন্ধগ্রন্থ : শব্দ ও নৈঃশব্দ্য। (২০০২), রাফিদ আল ফারুকের কবিতাগ্রন্থ : জানাও বৈকালী (২০০১), আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের স্মৃতিকথা : ভালবাসার সাম্পান (২০০২), তারেক মাহমুদের কবিতাগ্রন্থ : সুবর্ণার প্রেম (২০০২), আবুবকর সিদ্দিকের কবিতাগ্রন্থ : আমার যত রক্তফোঁটা (২০০২), গোলাম মোহাম্মদের কবিতাগ্রন্থ : হে সুদূরে হৈ নৈকট্য (২০০৩), আবু করিমের কবিতগ্রন্থ : বনসাই (২০০৩), নাজমুল আলমের গল্পগ্রন্থ : গল্পসমগ্র (২০০৩), শামসুর রাহমান-অনূদিত : রবার্ট ফ্রস্টের কবিতা : নির্বাচিত কবিতা (২০০৩), হাসান আলীমের প্রবন্ধগ্রন্থ : কুসুমে বসবাস (২০০৩), শাফিকুর রাহীম কবিতগ্রন্থ : কবিতাসমগ্র (২০০৪), নৃপেন্দ্রলাল দাশের কবিতাগ্রন্থ : সেই অনন্ত আঁখর (২০০৫), রব্বানী চৌধুরীর প্রবন্ধগ্রন্থ : নৃপেন্দ্রলাল দাশ : সৃজন ও মনন (২০০৫), আমীরুল ইসলামের কিশোরতোষ উপন্যাস সংগ্রহ : সাতটি তারার মেলা (২০০৫), ইমরুল চৌধুরীর কবিতাগ্রন্থ : সব অন্ধকার আমার ঘরে (২০০৬), রফিক আজাদের কবিতাগ্রন্থ : সেরা পাঁচ (২০০৬), আসাদ কাজলের কবিতাগ্রন্থ : মুকুটপুরুষ (২০০৬), শিহাব সরকারের উপন্যাস : দুঃস্বপ্নের পাত্রপাত্রী (২০০৬),

প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননা: বাংলা একাডেমীর একুশে পদকসহ এ পর্যন্ত শতাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। সম্বর্ধিত হয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে। সর্বশেষ জাতীয় প্রেসক্লাব ‘সমগ্র সাহিত্যকর্মের জন্য’ বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘গুণীজন সম্বর্ধনা’ পেয়েছেন ২০০৯-এ। কবির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁকে বিপুল সম্বর্ধনা দেয়া হয়।

প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৫৯ সালে, ইমাম স্মৃতি পুরস্কার ‘সত্যাসত্য’ গল্পের জন্য। ওমেন্স হল (বর্তমানে রোকেয়া হল), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। গল্পটি ‘সত্যের মতো বদমাশ’ গল্প গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। এরপর উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে আছে : ১৯৭৩ হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার (শুদ্ধতম কবি, প্রবন্ধগ্রন্থ), লেখক শিবির, ঢাকা। ১৯৭৫ সুমন্ত প্রকাশন সাহিত্য পুরস্কার (শুদ্ধতম কবি, প্রবন্ধগ্রন্থ) কলকাতা। ১৯৮১ আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (করতলে মহাদেশ, প্রবন্ধগ্রন্থ), ফরিদপুর। ১৯৮১ বাংলা একাডেমী পুরস্কার (প্রবন্ধ ও গবেষণা), ঢাকা। ১৯৮৬ চারণ সাহিত্য পুরস্কার (অনুবাদ ও গবেষণা) ঢাকা। ১৯৯১ ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার (প্রবন্ধ ও গবেষণা) চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্র, চট্টগ্রাম। ১৯৯৩ ত্রিভুজ সাহিত্য পুরস্কার (কবিতা), ত্রিভুজ সাহিত্য পরিষদ, ঢাকা। ১৯৯৮ নজরুল একাডেমী পুরস্কার (নজরুল-গবেষণা), চুরুলিয়া, বর্ধমান, ভারত। ১৯৯৯ বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক, ঢাকা। ২০০০ কবি তালিম হোসেন ট্রাস্ট পুরস্কার (নজরুল-গবেষণা), ঢাকা। ২০০০ নজরুল পদক (নজরুল গবেষণা), নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ২০০১ নন্দিনী সাহিত্য পুরস্কার (সামগ্রিক সাহিত্য) নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র, ঢাকা। ২০০২ কবি সুকান্ত সাহিত্য পুরস্কার (প্রবন্ধ-গবেষণা) কবি সুকান্ত সাহিত্য পরিষদ, ঢাকা। ২০০২ অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (কবিতা) অলক্ত সাহিত্য সংসদ, কুমিল্লা। ২০০৩ একুশে পদক (প্রবন্ধ-গবেষণা) বাংলাদেশ সরকার। ২০০৬ স্বাধীনতা ফোরাম সম্মাননা (কবিতা) স্বাধীনতা ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা। ২০০৬ নজরুল পদক (নজরুল গবেষণ) নজরুল একডেমী, ঢাকা। ২০০৭ বাংলা ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র পুরস্কার (সমগ্র সাহিত্য), ঢাকা। সর্বশেষ ২০১০ বাংলা সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার ও গুণীজন সংবর্ধনা প্রাপ্ত হন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ ছিলেন বিরল প্রতিভাধর একজন শক্তিমান কবিসত্তায় স্বতঃন্তর। স্থান-কাল-পাত্র, বাস্তবতা, সত্যাসত্য ও যোগ-বিয়োগ নির্ণয় করে বাংলা ছোটগল্প রূপায়িত হয়েছে তাঁর শিল্পীসত্তার নান্দনিকতার ছোঁয়ায়। আধুনিক ছোটগল্পের নতুন একটি দিগদর্শন নির্ণিত হয়েছে তাঁর নিজস্ব গতিতে। বহুধা দিগন্তু উন্মোচিত করে তা ছোটগল্পের গণ্ডিকে ছাপিয়ে সবেগে ধাবিত হয়ে স্থান করে নিয়েছে কথাসাহিত্যের সাগরে। গদ্যসাহিত্যের গতি-প্রকৃতি তাঁর ভাব-ভাষার কারণে হয়েছে গতিশীল। যা পাঠককে কথাসাহিত্যের এক নবতর কক্ষপথে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। উলঙ্ঘন গতি-প্রকৃতি, রচনা শৈলী, শক্তিমত্তায় গদ্যছন্দের গদ্যরস তাঁর হাতে পেয়েছে নতুন এক মাত্রা। তার লেখা ছোটগল্প শুধু বিষয়-বিচিত্রতায় নয়, রূপ প্রকরণ সৃষ্টির আঙ্গিকেও সত্যিই বিস্ময়কর, অপূর্ব! মধ্যবিত্ত সমাজের আকর্ষণ-বিকর্ষণ, ব্যক্তিসত্তার নৈতিক-অনৈতিক দিক, আশা-নিরাশা, পলিটিক্স ও রাজনীতির মারপ্যাচ, বাস্তববাদ-পরাবাস্তববাদ ও পারিবারিক জীবনের উত্থান-পতন তাঁর গল্পে নিজস্ব একটা পটভূমিকা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। যা পাঠকের মনোজগতে নতুন একটা ক্ষেত্র তৈরি করেছে। আমরা মনে করি, ছোটগল্পের ক্ষেত্রে যা রবীন্দ্র বলয়কে ভেদ করতে পেরেছে। আধুনিক কথাসাহিত্যের প্লট হয় খণ্ড-বিখণ্ড জীবনযাপনের রূপায়ণ একত্রিত করে। জীবন কোনো রোবট নয় যে, একই নিয়মে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। রবীন্দ্র ও তৎপরবর্তী গদ্যসাহিত্য যে গতিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল আব্দুল মান্নান সৈয়দ সেখান থেকে সরে এসে আধুনিক কথাসাহিত্যের দিগন্তে পদার্পণ করেছেন। গল্পের বেলায় নতুন মাত্রা সৃষ্টিতে তিনি সদা উজ্জ্বল। উপন্যাসের ক্ষেত্রেও তিনি তাঁর নিজের গদ্য সাহিত্যের রঙই ব্যবহার করেছেন। যা অন্য সকল কথাশিল্পীর রঙিন দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকের। আবদুল মান্নান সৈয়দের স্বপ্ন শুধু তার একান্ত নিজের। সেখানে অন্য কারো তুলির আচড় তিনি লাগতে দেননি। অন্যদিকে সমালোচনা সাহিত্যে তিনি যে বিস্তর কাজ করেছেন তা ভাবতে গেলে রীতিমতো অবাক হতে হয়। বাংলা সাহিত্যের ভাবসম্প্রসারণ, সাহিত্যের সুক্ষè-চুলচেরা বিশ্লেষণ ও সমালোচনাÑ সুপ্রতিষ্ঠিত দক্ষ গবেষক ও কথাসাহিত্যিক আবদুল মান্নান সৈয়দ করে গেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল রবীন্দ্রনাথ ছাড়াও পরবর্তীকালে সাহিত্যে খ্যাতিমান প্রায় সব লেখকের সৃষ্টিতে তিনি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছিলেন। বলা যায় তার হাত ধরেই নতুনভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে সমালোচনা সাহিত্য, তথা প্রবন্ধ সাহিত্য। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গতিশীল একটি ধারা ও কথাসাহিত্যর শক্তিশালী মাধ্যম গল্পসাহিত্য তার হাত ধরেই আধুনিকতার রঙিন ছোঁয়া পেয়েছে। পেয়েছে আলোচিত-আলোকিত রঙ ও গতিশীলতা। সেটা সন্দেহাতীতভাবেই এখন বলা যায়। সেজন্যেই তাঁকে বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক অনুভবের চিন্তক ও সব্যসাচী বলা হয়ে থাকে। ডান-বাম দু’দিকেই সমান দক্ষতাসম্পন্ন লেখক ছিলেন আবদুল মান্নান সৈয়দ। ইতিমধ্যে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকশিত হয়েছে আবদুল মান্নান সৈয়দের রচনা সমগ্র সাত খণ্ড। গত ৩০ আগস্ট ২০২০ বাংলা একাডেমি থেকে কবি সোলায়মান আহসানের সাথে গিয়ে ৭টি খণ্ডই কিনে এনেছি। উল্টেপাল্টে দেখেছি তবে এখনো পড়তে পারিনি। এত বিশাল কর্মকাণ্ড দেখে বার বার বিস্মিত হয়েছি। এত ঘনিষ্ঠ ছিলাম কিন্তু এত ব্যাপক সৃষ্টি সম্ভারের গতি-প্রকৃতি সম্বন্ধে কখনো বিস্তারিত আবদুল মান্নান সৈয়দ স্যারের মুখে শুনতে পাইনি।

সব্যসাচি এই লেখককে আরও বেশি করে জানা এবং তাঁর সাহিত্য-কর্ম ও জীবনাদর্শ আলোচনা করার গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের জাতির মহান ব্যক্তিত্বদের কথা আমাদেরকে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে। আমাদের আত্মপরিচয়ের ক্ষেত্রে এদের অবদান অপরিসীম। আমাদের ভবিষ্যৎ উত্তরসূরীদেরকে এ সম্পর্কে অবহিত করা আমাদের দায়িত্ব। (সমাপ্ত)