উনবিংশ বিংশ শতকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মৌলিক লেখক, ময়মনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকার সম্পাদক ড. শ্রী দীনেশচন্দ্র সেন এর নাম শুনেনি সাহিত্যজগতে এমন কোন লোক থাকার কথা নয়। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান বিষয়ে বই লিখে তিনি সুকুমার সেনের ন্যায় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম অবদানকে অকপটে তুলে ধরেছেন। ঢাকার ছেলে অথচ পরবর্তী জীবনে কলকাতায় স্থায়ী ড. শ্রী দীনেশচন্দ্র সেনের দৌহিত্রি বিশিষ্ট লেখক ও সংগঠক দেবকন্যা সেন এ সপ্তাহে ঢাকায় আসেন। তিনি ২৫-৪-২০২৬ তারিখে এশিয়াটিক সোসাইটি চত্বরে ইতিহাস একাডেমি আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইতিহাস সম্মেলনে অংশ নেন ও প্রবন্ধ পাঠ করেন। পরের দিন ২৬-৪-২০২৬ তারিখ তিনি বাংলা একাডেমি আল মাহমুদ চত্বরে ইতিহাসের পাঠশালা নামক একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরের দিন ২৭-৪-২০২৬ তারিখ বিকালে তিনি বাংলা একাডেমি আল মাহমুদ কর্নারে আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকা ও আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন রিসার্চ সোসাইটি ভারত এর যৌথ দীনেশচন্দ্র সেন স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০২৬ ও দীনেশচন্দ্র সেন পল্লীকবি জসীম উদদীন সুবর্ন সম্মাননা ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের নাত্নি দেবকন্যা সেনের সভাপতিত্বে প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহিদুর রহমান এ স্বর্ণপদক সম্মাননা এবং এ এইচ এম নোমান, সৈয়দ রোখসানা জামান সানু ও জলদ সম্পাদক স্বপন ধর অন্যান্য সম্মাননা লাভ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলা একাডেমির পরিচালক তপন বাগচি, সৈয়দ মঈন শেখ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সাহিত্যকর্মের আন্তর্জাতিক দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও গবেষক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। তিনি দেবকন্যা সেনকে ১৯৯৭ সালে কিশোরগঞ্জ সাহিত্য সম্মেলন উপলক্ষে তাঁর সম্পাদিত একটি সংকলন যেটিতে দীনেশ চন্দ্র সেনকে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখিত একটি পত্রের হস্তলিপি দিয়ে প্রচ্ছদ করা হয়েছে-উপহার দেন।
দেবকন্যা সেন এসব অনুষ্ঠান ছাড়াও নানা পর্যায়ে গণসংযোগ করেন। তিনি ২৯-৪-২০২৬ সন্ধ্যায় বিমান যোগে কলকাতার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সংযোগে তাঁর এ সফর গুরুত্ব বহন করে।
মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম