নখ

নয়ন আহমেদ

তার একটা নখের সমান আমি

পেয়েছি ভালোবাসা।

এই সঞ্চয় ঝরিয়ে দিলো একটা ঝরাপাতার হাহাকার।

কাকে বলে শুশ্রূষা? প্রেম কাকে বলে?

ঘাসেরও হৃদয় আছ্।

উদ্বাস্তু হলে সে ফ্যাকাশে হয়ে যায়।

আনন্দেরও আছে অন্তর্বর্তীকালীন জরুরি অবস্থা।

সংসার ছেড়ে নিরুদ্দেশ যাত্রা আছে কিছু বেদনার।

খুঁজে নেবে তীর্থপথ।পুণ্য অর্জনে মনোযোগী হবে।

এই বিবেচনায়, রোদও কুড়োতে যেতে পারে তার

নিজস্ব ছায়া, প্রলুব্ধ রঙ।

আমি যাবো না কোথাও।

আমি, নখগাছটার কাছে বসে থাকবো

বেহায়ার মতো।

বলবো, ওটুকুনই দাও।

অনুগামী দুঃখের সাথে কিছু প্রযত্ন উত্তাপ মেশাই।

একটা লেবুর পাতার মতো সার্থকতা হবে।

তার নখের সমান আমি

পেয়েছি ভালোবাসা।

খুব যত্ন করে রাখি মহামূল্য ধন।

একটুকরো মাটিরও রয়েছে মৌলরসায়ন,

স্বাধীন বিকাশ।

উদ্বাস্তু হলে তার হৃদয় পুড়ে যায়।

বেদনারও আছে সহজ সমাজবিজ্ঞন।

আমি, আঙটির মতো দৃষ্টিগ্রাহ্য করি তার ভালোবাসা।

চলে যাচ্ছি

এম. আব্দুল হালীম বাচ্চু

চলে যাচ্ছি, জানালার কাচে আটকে থাকা বিষণ্ন বিকেলের মতো

ফেলে যাচ্ছি, নীরব ট্রেনের সিটে নিজের নাম, নিজের চিহ্ন।

ফেলে যাচ্ছি, ভেজাচোখ, কুঁচকানো আলো, অপ্রকাশ্য কিছু কথা!

চলে যাচ্ছি, পায়ের নিচে কাঁপা সময়, খিতখিতে অন্ধকারের এই দেশ ছেড়ে

চলে যাচ্ছি, বেলুনের মতো হালকা হয়ে

যদিও বুকের ভেতর কীসের যেন ভার!

হ্যাঁ, চলে যাচ্ছি-- শুধু দুঃখটুকু নিয়ে

ফেলে যাচ্ছি, একবিন্দু ভালোবাসা-- তোমাদের কাছে ফেলে!

হাদী জেগে থাকা স্বপ্ন

আহসান হাবিব বুলবুল

ওসমান হাদী একটি নাম

জেগে থাকা একটি স্বপ্ন

ক্ষণজন্মা এক বীর

হাদী নজরুলের ‘চির উন্নত মম শির’।

হাদী আধিপত্যবাদী শক্তির আতংক

স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী

সাম্য-মৈত্রীর জয়গান

হাদী ফররুখের পাঞ্জেরী।

হাদী সত্যের সৈনিক

মিথ্যার চির শত্রু

ন্যায়ের ঝান্ডা বাহক

হাদী সুকান্তের ‘আঠারোর স্পর্ধা ‘- নির্ভিক।

হাদী পদ্মা মেঘনা যমুনা সিন্ধু

হাদী প্রস্ফুটিত গোলাপে একফোঁটা শিশির বিন্দু!

হাদী একটি নাম

ইতিহাসের এক উজ্জ্বল স্মারক।

গুপ্তবর্ণের আত্মকথা

এবি ছিদ্দিক

জোড়াতালি শব্দগুলো আজকাল -

পঙক্তিতে বসতে দারুণ বেসামাল!

মানুষ মরে গেলে-

যথারীতি মাটি কিম্বা চিতায় সাজায়

চল- আমরা সংসার সাজাই

সহস্র আর্তনাদ ফুঁড়ে

গুপ্তবর্ণে গ্রন্থিত শব্দসমূহ আমাদের আঙিনায়

আজো প্রেমের চারাগাছ...

এই সময়ে কাঠ- কয়লা পুড়িয়ে চল নির্মাণ করি

অনাগত ভবিষ্যৎ

ছুঁয়ে দেখ শরীর- আত্মার অস্তিত্ব খুঁজে পাবে না!

ছুঁয়ে দেখ হৃদয় ... বিজয় নিশ্চিত হবে।

রজতরেখা

শঙ্খশুভ্র পাত্র

রুপোলিরেখার কাছে এই ভোরে নিরালা ভ্রমণ।

কবীরে চিনেছি৷ ছবি৷ রবিকরে উদ্ভাসিত প্রাণ।

স্তবকে-স্তবকে স্তব— বাস্তবতা-অলীক স্পন্দন

কোথাও কী খুঁজে পেলে? একবিন্দু দৃশ্য ব্যবধান

নির্ণয়ে রজতরেখা, সনেটে কি পরিত্রাণ মেলে?

ত্রসরেণু, ত্রাস নয়৷ আরাত্রিক? রাত্রি মনে পড়ে৷

এই যে শব্দের খেলা, বঙ্গাব্দের শুভদীপ জ্বেলে

তোমাকে স্মরণ করি— আসঙ্গ কালবৈশাখি ঝড়ে...

দাবদাহ, কিছু তো বিলুপ্ত হবে৷ প্রশমন হেতু

আবার বিভাবে ফেরা, রুপোলি রেখার পিছুটান৷

মহান কবীর, দোয়া— দোঁহা জানে নিরালম্ব সেতু৷

আট-ছয়ে পুঞ্জীভূত কুঞ্জবন— সনেটের গান...

তারুণ্যে বিভোর, তরু, তেরে নে তেরে না তুম তানা...

রজতরেখার কাছে একা-একা যেতে নাহি মানা!

তোমাকে খুঁজি

আর. কে. শাব্বীর আহমদ

তোমাকে খুঁজি

তোমার উপমায়

হৃদয়ের হেম কণিকায়।

তোমাকে খুঁজি

পাহাড়ের চূড়ায়

সাগরের অতলতায়।

তোমাকে খুঁজি

অরণ্যের দোলায়

প্রেমের অববাহিকায়।

তোমাকে খুঁজি

স্মৃতির জানালায়

মায়াভরা নীলিমায়।

তোমাকে খুঁজি

বেলা অবেলায়

সুন্দরের অমরতায়।

নদী

নাঈম মাহমুদ সোহাগ

নদী নেই। থাকলেও গতি নেই

র্তীর নেই। থাকলেও ভিড় নেই।

এখন হারালো পুরানো সৌন্দর্য

কেউ জানবে না ইতিহাস ঐতিহ্য।

নদী নেই। থাকলেও অজানা

ঢেউ নেই। থাকলেও কিছু না।

তাকে আজ অনেকেই খোঁজে না

তার প্রেমে নতুন করে কেউ পড়ে না।

নদীগুলো চর পরে মরে গেছে

স্বার্থ লোভী কিছু মানুষই মারছে।

কেউ আসে না নদীকে বাঁচতে

ভুলে গেছে নদীকে ভালোবাসতে।

মানুষের বাজারে মানুষ নেই

রেজা কারিম

মাছের বাজারে গেলাম

ওমা মাছ কই

কাঁকড়ার দখলে মাছের আড়ৎ।

সবজির বাজারে গেলাম

কাঁচা-পাকা কোনো সবজি নেই

শুকনো শীষের আনাগোনায় বাজার সয়লাব

যে জরাজীর্ণ শীষ স্বপ্নে দেখেছিলো মিশরের বাদশাহ।

মুদি দোকানে গেলাম

কেঁচো বিছিয়ে বসে আছে দোকানি

ছিটকে বেরিয়ে আসি।

কী আশ্চর্য!

যেখানেই যাই সেখানেই বিপত্তি

যার যেখানে থাকার কথা সে সেখানে নেই

শিথান পৈতানে, পৈতান শিথানে

অনুকূল প্রতিকূলে, প্রতিকূল অনুকূলে।

ভাবলাম, একবার মানুষের বাজারে যাই

কিন্তু একি!

মানুষের বাজারে মানুষ নেই

মানুষের মুখোশ পরা দুপেয়ে জন্তু

আমি তখন সংখ্যালঘু মানুষ

ভয় পেয়ে দেই ভোঁ দৌড়।