ইরান শনিবার হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে একাধিক পূর্বশর্ত ঘোষণা করেছে, এসব শর্তের মধ্যে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণও রয়েছে। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর ওয়াশিংটনকে তাদের আচরণ সংশোধনের পাশাপাশি মোট ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জুন মাসের সমঝোতা লংঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পুনরায় হামলা করলে ইরান প্রণালীটিতে নতুন করে শক্ত অবরোধ আরোপ করে।

শনিবার নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর প্রণালী খোলার জন্য একাধিক দাবি তুলে ধরেন।

ইরানের প্রধান শর্তসমূহ:

ইরান ও এর পবিত্র মূল্যবোধের বিরুদ্ধে সমস্ত ধরনের হুমকির অবসান ঘটাতে হবে।

ইরান ও আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে সামরিক পদক্ষেপ বা যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরাতে হবে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ইরানের ওপর আরোপিত সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

বিদেশে বা যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের সমস্ত সম্পদ ও অর্থ নিঃশর্তভাবে মুক্ত করতে হবে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানায়, হরমুজ পুনরায় খোলা ওমানের সঙ্গে আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তারা দাবি করেছে, ‘শত্রু ইরানের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য’।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে প্রণালীতে অব্যাহত হামলা চলছে। মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে জুন মাসের সমঝোতায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ওমানের সঙ্গে প্রণালী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। তবে তিনি আরো বলেন, হরমুজ পুনরায় খোলা ‘অন্য শর্ত ও জুন চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণের ওপর নির্ভরশীল’।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে তেহরান কার্যত প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করেছে। ইরান প্রণালী দিয়ে চলাচলে টোল আদায়ের দাবি করছে এবং তাদের পছন্দের রুট এড়িয়ে চলতে চাওয়া জাহাজগুলোকে আক্রমণ করছে।