যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এ তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই স্থবির অবস্থায় রয়েছে। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কুয়েত সিটি থেকে এএফপি ও বিএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২১৫-২০৮ ভোটে গৃহীত প্রস্তাবটির পক্ষে কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন। প্রস্তাবটি আইনগতভাবে তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতা তৈরি না করলেও এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ সিনেটে পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চললেও উভয় পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ইরান দাবি করেছে, আলোচনায় ‘কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি’ হয়নি। অন্যদিকে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, সপ্তাহান্তেই সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এদিকে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও ৬৩ জন আহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। কুয়েত এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটিজনিত ঘটনা। এ বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা এলেও বাস্তবে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম, আমদানি ব্যয় এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইরান সংকটকে ঘিরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও সামরিক উত্তেজনা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।