গাজার উত্তরাঞ্চলের গাজা সিটিতে আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রকাশিত আল জাজিরার এক ভিডিও প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি সেবাকর্মীরা অভিযান পরিচালনা করেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক থাকার কথা স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, যদিও নিহতদের পূর্ণ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ হামলা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত মন্তব্য প্রকাশ করেনি। তবে অতীতের অনুরূপ অভিযানে ইসরায়েল সাধারণত দাবি করে থাকে যে তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য বা সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে গাজা উপত্যকায় একাধিক বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা সিটি, খান ইউনিস এবং মধ্য গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও পাল্টা অভিযানে হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা পরিস্থিতির অবনতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে জনমত ও কূটনৈতিক আলোচনায় এ ধরনের ঘটনার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা, যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।