* ইরানী নেতৃত্বের কাছে অপমানিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

* তেহরানের কাছে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্ড আছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে তিনধাপের প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান। ইরানসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোর স্বার্থে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে বলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন জানিয়েছেন। এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বিব্রত অবস্থায় পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। আল-জাজিরা, সিএমজি, রয়টার্স, তাসনিম নিউজ এজেন্সি, বিবিসি, এএফপি, সিএনএন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের তিন ধাপের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে তিন ধাপের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান। গত রবিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেহরানের শর্তগুলো জানিয়েছেন তিনি।

একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাকিস্তানের রাজধানীতে এটি ছিল তার দ্বিতীয় সফর। ওমানে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি পর রোববার আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছান।

ইরানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি এবং ইরান ও লেবাননের ওপর নতুন করে হামলা বন্ধে নিশ্চয়তা প্রদান। এই ধরনের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত হওয়ার পরেই আলোচনা দ্বিতীয় পর্যায়ে যাবে, যা হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার ওপর আলোকপাত করবে। তৃতীয় পর্যায়ে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হবে, যদিও তেহরান জোর দিয়ে বলেছে যে পূর্ববর্তী পর্যায়গুলোতে অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তারা পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নেবে না।

ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, আরাঘচি ওয়াশিংটনকে লিখিত বার্তাও দিয়েছেন, যেখানে তেহরানের অলঙ্ঘনীয় সীমা তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির বিষয়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বার্তাটির উদ্দেশ্য ছিল ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করা, কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়।

তেহরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘কার্ড’ আছে : ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার

ওয়াশিংটন ও তেহরানের অর্থনৈতিক ‘কার্ড’ বিশ্লেষণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আধিপত্যের দাবি তিনি নাকচ করেছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তির বড় অংশই ইতিমধ্যে হারিয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘কার্ড’ রয়েছে, যা ব্যবহার করা হয়নি।

গত রোববার রাতে নিজের এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে গালিবাফ এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার একটি সমীকরণ তুলে ধরেন। এর একদিকে রয়েছে ইরানের সরবরাহভিত্তিক সক্ষমতাÑহরমুজ প্রণালি, বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও তেলের পাইপলাইন।

সমীকরণের অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদাভিত্তিক পদক্ষেপÑ কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, তেহরানের হাতে এমন কিছু বিকল্প আছে, যা এখনো ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তার বেশ কিছু হাতিয়ার ব্যবহার করেছে বা আংশিকভাবে প্রয়োগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার লিখেছেন, ‘ওরা কার্ড নিয়ে বড়াই করছে। দেখা যাক: সরবরাহ কার্ড = চাহিদা কার্ড।’

তেহরানের কার্ড প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, হরমুজ প্রণালি কার্ড আংশিক ব্যবহার হয়েছে। বাব এল-মান্দেব কার্ড ব্যবহার হয়নি। পাইপলাইন কার্ডও ব্যবহার করা হয়নি।

ওয়াশিংটনের কার্ড প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে। চাহিদা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আংশিক ব্যবহৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও মূল্য সমন্বয় আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার’ দিকটি তুলে ধরে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার আরও বলেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে দেশটিতে জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

ইরানসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোর স্বার্থে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দেশটির স্থানীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পুতিন বলেন, ইরানসহ ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর স্বার্থে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ইরানের জনগণ বর্তমানের এই ‘কঠিন সময়’ কাটিয়ে উঠবে এবং সেখানে শান্তি ফিরে আসবে।

ইরানি নেতৃত্বের কাছে অপমানিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: জার্মান চ্যান্সেলর

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বিব্রত অবস্থায় পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। জার্মান চ্যান্সেলর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানি নেতৃত্বের কাছে অপমানিত হচ্ছে’।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থানের কৌশল কী, তা তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গোটা জাতি ইরানি নেতৃত্বের কাছে অপমানিত হচ্ছে। বলে উল্লেখ করেন।

রয়টার্সের বরাত দিয়ে মের্জ বলেন, ‘এই মুহূর্তে, আমেরিকানরা প্রস্থানের কোন কৌশল বেছে নিচ্ছে, তা আমি দেখতে পাচ্ছি না।’

উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার মার্সবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে মের্জ আরো বলেন, ইরান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে।

২ হাজার পাউন্ড ওজনের তিনটি মার্কিন বাংকারবিধ্বংসী অবিস্ফোরিত বোমা ধ্বংসের দাবি আইআরজিসির

ইরানের জাঞ্জান প্রদেশে ৯ হাজার ৫০০টি বোমার ক্ষুদ্র অংশ (বোম্বেট), কয়েক ডজন অবিস্ফোরিত রকেট-ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ২ হাজার পাউন্ড ওজনের মার্কিন জিবিইউ-৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা শনাক্তনিষি।ক্রয় করার কথা জানিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসির বিবৃতির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ইরানের।

প্রদেশটিতে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চালানো আগ্রাসনের অবিস্ফোরিত অস্ত্র-গোলাবারুদ শনাক্ত-নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষায়িত বোমা নিষ্ক্রিয়কারী-অপসারণ ইউনিটগুলো অভিযান চালায়। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে এই অভিযান চালানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৯ হাজার ৫০০টির বেশি বোমার ক্ষুদ্র অংশ শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এগুলো শত্রুর যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা হয়েছিল। এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া বিভিন্ন ধরনের অবিস্ফোরিত রকেট-ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। মোট ৫২টি রকেট ধ্বংস করা হয়েছে। ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, তিনটি ২ হাজার পাউন্ড ওজনের মার্কিন জিবিইউ-৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা ধ্বংস করা হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ছাড়া একটি ৫০০ পাউন্ড ওজনের দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং জিবি-৩৯ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানায় আইআরজিসি। তারা বলেছে, এগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উন্নত যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয়েছিল।