এক্সে, রয়টার্স
এএফপি, আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় যে সংকট তৈরি হয়েছে তা পূরণে চীনকে সহায়তা করতে চায় রাশিয়া। পাশাপাশি অন্যান্য দেশগুলোর ঘাটতি মেটাতেও মস্কো প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। বেইজিং সফরের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন এবং আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী অন্যান্য দেশগুলোতে যে জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হয়েছে, রাশিয়া নিঃসন্দেহে তা পুষিয়ে দিতে পারে।’ ল্যাভরভের বরাত দিয়ে মস্কোর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, চলতি বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীন সফর করবেন। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া দুইদিনের বেইজিং সফরে বুধবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ল্যাভরভ। রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তি ও তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে যেকোনো পরিস্থিতির মুখে ‘অটল ও অবিচল’ হিসেবে অভিহিত করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বিশ্ব রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে ভূমিকা রাখছে। যারা অশান্তি চায় না তাদের জন্যও চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চলতি সপ্তাহেই চীন সফর করেছেন ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লাম ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। একই সময়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিং সফর করলেন।
ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যৌক্তিক অবস্থানে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সেই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক পন্থায় দুই দেশের মতপার্থক্য দূর করার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। চীন সফরে গিয়েছেন ল্যাভরভ। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক অ্যানার্জি এজেন্সি (জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ পরিষদ—আইএইএ) কখনও বলেনি যে ইরান সামরিক উদ্দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। আমি আশা করব যে এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যৌক্তিক অবস্থানে আসবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বন্ধ করবে; কারণ এই যুদ্ধে শুধু ইরান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ সেই সঙ্গে আমি যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক পন্থায় ইরানের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্যগুলোর দূর করার আহ্বান জানাচ্ছি। ওয়াশিংটন যদি কূটনৈতিক উপায়ে ইরানের সঙ্গে সমস্যা মিটমাট করতে চায়— সেক্ষেত্রে রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছে।”
উল্লেখ্য, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে। জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, এই ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ বা পরিশুদ্ধ। এই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মান যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হলেই পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারবে ইরান। কারণ পরমাণু বোমা তৈরির জন্য ইউরেনিয়ামের মান ন্যূনতম ৯০ শতাংশ হওয়া জরুরি। গত বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে আসছে যে পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে ইরান, তবে তেহরান এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলমান বিরোধের জেরেই গত ২৮ এপ্রিল থেকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।