২০২৪ সালে সাবেক বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের সময় বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন ফিল সিমন্স। তার পর থেকে বোর্ড প্রধানের পদটা মিউজিক্যাল চেয়ারে পরিণত হয়েছে। তিনজন ভিন্ন সভাপতি বদলেছে এই সময়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে সেই প্রসঙ্গ স্থান পেলো সংবাদ সম্মেলনে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল হলেও তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় দলের ওপর পড়েনি বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। নিউজিল্যান্ড সিরিজকে সামনে রেখে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মাঠের বাইরের পরিবর্তনে খেলোয়াড়দের মনোযোগ সরেনি। কোচ সিমন্সের মতে, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি বা মানসিকতায় কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ওপর এর প্রভাব কতটুকু তা জানতে হলে হয়তো তাদেরই জিজ্ঞেস করা উচিত। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো মানসিক প্রভাব দেখছি না। তারা আগের মতোই কঠোর পরিশ্রম করছে এবং সিরিজের প্রস্তুতির জন্য যা যা করা প্রয়োজন, সবটুকুই করছে। বোর্ডের প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে অনুশীলনের সূচি বা ক্যাম্পে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন সিমন্স। তিনি জানান, ‘আমরা কীভাবে অনুশীলন করছি বা আমাদের প্রাত্যহিক কর্মকা- কী হবে, তাতে এসব পরিবর্তনের কোনো প্রভাব নেই। আমাদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প এবং অনুশীলন ঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ীই শেষ হয়েছে।’
বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গেও ইতোমধ্যে আলোচনা সেরে নিয়েছেন কোচিং স্টাফরা। সিমন্স জানান, তামিম ইকবালের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোচিং স্টাফরা এ বিষয়ে তার (তামিম ইকবাল) সঙ্গে কথা বলেছি। দুই দিন আগে একটি ম্যাচ চলাকালীন তিনি ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন এবং আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এভাবে কয়েকবার আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে।’ ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অনিয়মের অভিযোগে আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দিয়েছে। এখন অ্যাড-হক কমিটির অধীনে এর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তামিম ইকবাল। সাম্প্রতিক এই পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সিমন্স বলেছেন, ‘প্রথমত হচ্ছে এতে আমাদের কাজ বা অনুশীলনে কোনো প্রভাব পড়েনি। আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই ক্যাম্প হয়েছে।’ খেলোয়াড়দের ওপর কোনো মানসিক প্রভাব পড়েছে কি নাÑএমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‘এটা খেলোয়াড়দের কাছেই জানতে হবে। তবে আমার চোখে কোনো প্রভাব দেখিনি। তারা সব কাজ করেছে, আগের মতোই কঠোর পরিশ্রম করেছে, অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি করেছে। সিরিজের প্রস্তুতিও ঠিকভাবেই চলছে।’ নেতৃত্বে হঠাৎ পরিবর্তন তাকে অবাক করেছে কি নাÑএমন প্রশ্নেও সিমন্সের জবাবটা ছিল, ‘এখন আর কিছুতেই অবাক হই না। এটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় নয়, জীবনেরই অংশ। প্রতিদিনই অনেক কিছু ঘটে, তাই এসব আমাকে আর অবাক করে না।’ তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘এখন তৃতীয় বোর্ড প্রধান দায়িত্বে, কিন্তু এতে আমার কাজে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দলকে প্রস্তুত করা বা কোচিং স্টাফ হিসেবে আমাদের কাজের ধরণে কোনো প্রভাব পড়েনি। আমরা যেভাবে কাজ করছিলাম, সেভাবেই চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা যা গড়ে তুলতে চেয়েছি, সেটির দিকেই এগোচ্ছি। এখন পর্যন্ত কেউ এসে সেটি বদলানোর চেষ্টা করেননি।’ কিউইদের এই সিরিজের স্কোয়াডে আছে বেশ কিছু নতুন মুখ। ফলে অনেকেই কিউইদের বাংলাদেশ সফরের স্কোয়াডকে দ্বিতীয় সারির দল হিসেবে দেখছেন। তবে এমনটা মানতে নারাজ বাংলাদেশ হেড কোচ ফিল সিমন্স। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমি দ্বিতীয় সারির দল বলব না। আমার মনে হয় যেকোনো দেশ যে দল পাঠায় সেটাই তাদের সেরা দল, বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের ক্ষেত্রে। সেখানে সবসময় নতুন খেলোয়াড় উঠে আসে। আর একটা বিষয় মনে রাখতে হবেÑএই খেলোয়াড়রা সবাই ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ফরম্যাটেই অনেক ম্যাচ খেলেছে। তাই তারা অভিজ্ঞ এবং পরিণত ক্রিকেটার। কেউ হয়তো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি, কিন্তু জীবনে অনেক ক্রিকেট খেলেছে। তাই ‘দ্বিতীয় দল’ বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিষয়টা এভাবে কাজ করে না।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে গত মাসে স্পোর্টিং উইকেটে খেলেছে বাংলাদেশ। কিউইদের বিপক্ষেও একই উইকেটে খেলতে চান সিমন্স, ‘আমরা ভালো উইকেট চেয়েছি, কারণ আমার মনে হয় ভালো উইকেটে খেললে দল দ্রুত উন্নতি করে। তাই যতটা সম্ভব সেই ধরনের উইকেট পাওয়ার চেষ্টা করছি।’
পাকিস্তানের তুলনায় নিউজিল্যান্ড বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে কি না প্রশ্নে সিমন্স বলেন, ‘পাকিস্তানেরও কিন্তু ভালো পেসার আছে। যেকোনো সিরিজেই চ্যালেঞ্জ থাকবে। নিউজিল্যান্ড হয়তো আমাদের ভিন্নভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তবে আমরা সব ধরনের চ্যালেঞ্জের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। পাকিস্তান সিরিজের আগেও যেমন প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, এখানেও একইভাবে করছি। আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজের অপেক্ষায় আছি।’ সিমন্স যোগ করেন, ‘একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, এই ছেলেরা (নিউ জিল্যান্ডের) ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রচুর পরিমাণে ম্যাচ খেলেছে সব সংস্করণেই। কাজেই তারা বেশ পোক্ত ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাদের কয়েকজন হয়তো (খুব বেশি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেনি, তবে সবাই তাদের জীবনে অনেক ক্রিকেট খেলেছে। কাজেই দ্বিতীয় সেরা দল ভেবে নেয়ার কোনো কারণ নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওভাবে কাজ চলে না।’