হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন সামুদ্রিক রুট স্থাপনের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা বেশ ভালোভাবে এগিয়ে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে কৌশলগত এই জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাগচি বলেন, প্রণালির মধ্য দিয়ে বিদ্যমান রুটগুলোকে নতুন রুট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে এবং বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে এর মানচিত্র নিয়ে কাজ করছেন। আনাদোলু এজেন্সি, তাসনিম নিউজ।
তিনি বলেন, অবশ্যই, এর মানে এই নয় যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই জলপথ পুনরায় চালু করা আরও বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল, যা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জানানো হয়েছে। ওমানের সঙ্গে এই আলোচনাকে সম্পূর্ণ কারিগরি এবং আইনি বলে বর্ণনা করেছেন আরাগচি। এর লক্ষ্য হলো ১৯৬৮ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হওয়া সামুদ্রিক রুটগুলো নতুন করে নির্ধারণ করা।
হরমুজের নতুন রুট
তিনি জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধ এই রুটগুলোতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে তুলেছে এবং ইরান ও ওমানের বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে এই কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। রুটগুলো একবার নির্ধারিত হয়ে গেলে, প্রণালিটি যখন পুনরায় খোলা হবে তখন সেগুলো ব্যবহার করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রকে যে সব শর্ত দিলো ইরান
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আচরণ সংশোধনের তাগিদ দিয়েছে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। তেহরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ছয়টি শর্ত তুলে ধরেছেন কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মাদ বাঘের জোলকাদর।
প্রদত্ত শর্তগুলো হলো
১. ইরান ও দেশটির পবিত্র মূল্যবোধের বিরুদ্ধে সমস্ত হুমকি বন্ধ করা।
২. ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
৩. ইরানের বিরুদ্ধে নৌঅবরোধে জড়িত মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী প্রত্যাহার করা।
৪. সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেয়া।
৫. ইরানের ওপর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া।
৬. ইরানের ফ্রিজ করা সমস্ত সম্পদ অবমুক্ত করা।
জোলকাদর জানান, যুদ্ধ কিংবা আলোচনা, কোনো অবস্থাতেই সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এসব দাবি থেকে পিছপা হবে না। এই সকল শর্ত পূরণ হলেই কেবল হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হবে।
আস্থা ফেরাতে পারলেই শান্তি আলোচনায়
পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই শান্তির পথে হাঁটবে ইরান। তবে এ জন্য ওয়াশিংটনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই শান্তির পথে হাঁটবে ইরান। তবে এ জন্য ওয়াশিংটনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট করে দেন, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো পক্ষ যদি শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেয়, তাহলে ইরান তা মেনে নেবে না। এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির। এর আগে গত শুক্রবার পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, ইরান নিজেদের অধিকার রক্ষা করে সংলাপ চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে আলোচনার মাধ্যমে দেশকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না।
তিনি জানান, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেন। ওয়াশিংটন যতক্ষণ প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে, ততক্ষণ তেহরানও নিজেদের অঙ্গীকার মেনে চলবে। কোনো প্রতিশ্রুতি ভাঙলে ইরানেরও সেই বাধ্যবাধকতা থাকবে না। সম্প্রতি পদত্যাগের গুঞ্জন উড়ছিল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। সমঝোতা স্মারক নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের গুজবের মধ্যেই তার এই বক্তব্য এসেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এতে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ও ছিল। চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা করার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সেই আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের লক্ষ্য অর্জনে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আরআইজিসি) তেহরানের মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ কোরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান জাদেহ।
হাসান জাদেহর ভাষ্য, ইরানের জনশক্তি এবং বাসিজ বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি দেশটিকে অঞ্চল ও বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত করেছে ।
তিনি ২৭ তম মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ ডিভিশনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটালিয়নের প্রস্তুতি পরিদর্শনের সময় এসব কথা বলেন ।
তিনি আরো দাবি করেন, বারবার ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নেতারা এখন নিজেদের জনগণ ও অভিজাত শ্রেণীর সামনে কোনো জবাব দিতে পারছে না ।
তিনি আরো বলেন, ২৭ তম মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ ডিভিশনের বিশাল সক্ষমতা ও প্রস্তুতির মাত্র একটি অংশই এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়েছে।