মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা মার্কিন অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইরানের সরাসরি ড্রোন ও মিসাইল হামলা এবং ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলছে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ যখন সুদের হার কমানোর কথা ভাবছে, ঠিক তখন তেলের এই আকাশচুম্বী দাম মুদ্রাস্ফীতিকে আবারও উসকে দিতে পারে। এতে করে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং ডলারের বিনিময় হার অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ সামরিক সহায়তা দিয়ে ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে, তবে এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক বোঝা মার্কিন করদাতাদের ওপর পড়তে পারে। জ্বালানি পণ্যের পাশাপাশি সোনা ও অন্যান্য নিরাপদ বিনিয়োগের বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানেই দেশে পরিবহন ব্যয় ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, যা প্রকারান্তরে নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এছাড়া ডলারের দাম বাড়লে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।