যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনা ও নৌ-অবরোধের মধ্যেই প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের কোনো তেলকূপ বা জ্বালানি অবকাঠামো হামলার শিকার হলে, হামলাকারীকে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোতে ‘চারগুণ’ পাল্টা আঘাত হানা হবে।

ইরানের কৌশলগত জ্বালানি নীতি ও ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাকাব ইসফাহানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই হুমকি দেন। তিনি লেখেন, *"আমরা যেকোনো যুদ্ধংদেহী আচরণের জবাব দেব। যদি ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী অবরোধের ফলে আমাদের একটি তেলকূপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে আমরা গ্যারান্টি দিচ্ছি যে আগ্রাসনকারীকে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর একই অবকাঠামোতে চারগুণ বেশি ক্ষতিসাধন করা হবে।"* তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের গণিত একটু ভিন্ন: ১টি তেলকূপ = ৪টি তেলকূপ।"

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের তেলের পাইপলাইনগুলোতে যান্ত্রিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী তিন দিনের মধ্যে ইরানের জ্বালানি ব্যবস্থা বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্পের এই ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর পাল্টা হুঁশিয়ারি এল।

২০২৬ সালের শুরু থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই ছায়াযুদ্ধ এখন চরমে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আংশিক অবরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা নৌ-অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই আকাশচুম্বী।

মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সতর্ক করেছেন যে, যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে তবে আসন্ন গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে মস্কো সফরে রয়েছেন। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার চেষ্টা চললেও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর তেহরানের এই নতুন হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।