রংপুরের বদরগঞ্জে মসজিদের সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জামায়াতের ইউনিয়ন সেক্রেটারি নয়নের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল,তা ইসলামী ফাউন্ডেশনের তদন্তে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

সম্প্রতি ইসলামী ফাউন্ডেশন, বদরগঞ্জ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দাখিল করা হয়।

তদন্ত কমিটি মসজিদ পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই, মসজিদ কমিটির সভাপতি, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে—

অভিযোগকারী মাওলানা মোঃ আবু বকর সিদ্দিক তিনি মসজিদের সভাপতি হিসেবে যে অভিযোগ দেন প্রকৃতপক্ষে তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি নন এবং তিনি অভিযোগ পত্রে মসজিদের যে সিলমোহর ব্যবহার করেছেন সেটি তার নিজেস্ব বানানো সিল। অভিযোগকারী তার অভিযোগপত্রে লিখেছেন যে মসজিদটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত সেটি সঠিক নয় কারণ তথ্য কালে দেখা গেছে মসজিদটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগকারী ইমাম হিসেবে মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান কে ভুয়া ইমাম হিসেবে উল্লেখ করেছেন কিন্তু মাওলানা মিজানুর রহমান এই মসজিদের প্রকৃত ইমাম কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি স্বীকার করেন যে আমি এই মসজিদের ইমাম নই তবে গত এক বছর যাবৎ ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। অভিযোগকারী সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ইমামতির ভাতা মোঃ নয়ন মিয়া আত্মসাৎ করেছেন মর্মে যে অভিযোগ দাখিল করেছেন তা বর্তমান মসজিদ কমিটির কোন সদস্য সেই অভিযোগ সম্পর্কে অবগত নয়। এ ছাড়া তথ্যকালে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যগণ অবহিত করেন যে, বর্তমান ইমাম হিসেবে মোঃ নয়ন মিয়া যথাযথভাবে ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন যার রেজুলেশন সহ সকল সদস্যের স্বাক্ষর তদন্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান ইমাম নয়ন মিয়া বলেন, কমিটির সিদ্ধান্তে আমি এই মসজিদে ইমামতি করি তবে এলাকাবাসী ও মসজিদ কমিটি আমাকে ইমাম হিসেবে কখনও পরিবর্তন করতে চাইলে আমার কোন আপত্তি নাই। তদন্তকালে আরও জানতে পারেন যে, ইতিপূর্বে মসজিদ কমিটি সকলে আলোচনা সাপেক্ষে ইমাম সাহেবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় এবং এক পক্ষ উক্ত অভিযোগটি দায়ের করেন।

মসজিদের বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়ম বা আত্মসাৎ ঘটেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারী পক্ষ তথ্যগত অসঙ্গতি ও ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে অভিযোগ করেছেন।

মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ইমামগণ সাক্ষ্য দিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে সরকারি বরাদ্দ যথাযথ নিয়মে ব্যয় করা হয়েছে।

ইসলামী ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নয়নের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও তথ্যবিহীন’।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন বলেন, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। মসজিদের এক টাকাও আমি আত্মসাৎ করিনি। বরং সব সময় স্বচ্ছতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছি। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ, তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করেছেন।”

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, অভিযোগের কারণে নয়ন সামাজিকভাবে অপপ্রচার ও মানহানির শিকার হয়েছেন। তদন্তে সত্য প্রকাশ পাওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বদরগঞ্জ জামায়াতের আমির মোঃ কামরুজ্জামান একটি বিবৃতি প্রদান করে বলেন, আজকে একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত “ইমামের ভাতা নিজ নামে নিলেন জামায়াত নেতা” শীর্ষক সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত সংবাদে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর, একপাক্ষিক এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রথমত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ প্রমাণ সংবাদে উপস্থাপন করা হয়নি। যাচাইবিহীন তথ্যের ভিত্তিতে একটি ব্যক্তির সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

দ্বিতীয়ত, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। ন্যায়সংগত সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির মতামত ও ব্যাখ্যা প্রকাশ করা অত্যাবশ্যক ছিল, যা এখানে উপেক্ষিত হয়েছে।

আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে হেয় প্রতিপন্ন করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে আহ্বান জানাই, তারা যেন দ্রুত এ বিষয়ে সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশ করে।

পরিশেষে, আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ এবং সত্যনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানাচ্ছি।

তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রশাসন অভিযোগটি খারিজযোগ্য বলে মত দিয়েছেন।