মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর শহর দামিয়েত্তায় দুটি গ্যাসবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সুয়েজ খালের কাছাকাছি এই হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মিসরের মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার জানায়, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বুধবার একটি অজ্ঞাত ড্রোনের আঘাতে দামিয়েত্তা বন্দরে নোঙর করা দুটি জাহাজে আগুন লাগে। হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

বাণিজ্যিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন গ্যাস সংরক্ষণকারী ট্যাংকার এনারগোস উইন্টার-এ ড্রোনটি আঘাত হানে। পরে সেখান থেকে আগুন পাশের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক কমান্ড সেন্টার ও ড্রোন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে ইরান অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে ওয়াশিংটনের দাবি।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, মার্কিন হামলায় কেশম দ্বীপে তিন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং দুই শিশু আহত হয়েছে। এছাড়া জানজান প্রদেশে আইআরজিসির তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।

ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

জর্ডানের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, তারা পাঁচটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

এছাড়া ইরানপন্থী সংবাদমাধ্যম তাসনিমের দাবি, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ইরানি হামলায় দেশটির উত্তরে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবনে আঘাত লাগে। এতে একজন শ্রমিক নিহত এবং ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাধ্যমে সংঘাত শুরু হয়। জুনে স্বল্প সময়ের যুদ্ধবিরতি হলেও পরে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে অংশ নিয়ে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগর অঞ্চলে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগর হয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ এতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে সংঘাতের অবসানে একটি শান্তি চুক্তির পথও খোলা রাখতে চায় ওয়াশিংটন।