বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ২০২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (২৭ জুন সমাপ্ত) ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় ও মুনাফার ঘোষণা দিয়েছে। আইফোন ও ম্যাকবুকের শক্তিশালী বিক্রি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখলেও সেবা (Services) খাতের আয় প্রত্যাশা পূরণ না করায় ফলাফল প্রকাশের পর শেয়ারদর প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যাপল জানায়, তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মোট বিক্রি হয়েছে ১০৯ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ১০৮ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।
প্রতি শেয়ারে অ্যাপলের মুনাফা হয়েছে ২ দশমিক ০২ ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শুল্ক ফেরত বাবদ ১১ সেন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই অর্থ বাদ দিলেও প্রতি শেয়ারে মুনাফা দাঁড়ায় ১ দশমিক ৯১ ডলার, যা বিশ্লেষকদের ১ দশমিক ৮৯ ডলারের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, আইফোন বিক্রি ২১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৫৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি অ্যাপলের ইতিহাসে তৃতীয় প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আইফোন বিক্রি। নতুন আইফোন উন্মোচনের আগে সাধারণত বিক্রি কিছুটা কমে এলেও এবার সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেক ক্রেতা আগেভাগেই আইফোন কিনছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অ্যাপলের ম্যাক বিভাগও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ম্যাক বিক্রি প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বাজারের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী টিম কুক জানিয়েছেন, নতুন ম্যাকবুক নিও ও ম্যাকবুক প্রো মডেলের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল।
তবে সেবা খাত থেকে আয় ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৩০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ালেও এটি বিশ্লেষকদের ৩১ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এ কারণেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দেয়।
আইপ্যাড বিক্রি ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। টিম কুক বলেন, আগের বছরের একই সময়ে নতুন এ১৬ আইপ্যাড বাজারে আসায় এবার তুলনামূলক বিক্রি কম হয়েছে।
পরিধানযোগ্য ডিভাইস (Wearables) বিভাগে বিক্রি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
অ্যাপল আরও জানিয়েছে, বৃহত্তর চীন অঞ্চলে বিক্রি ২২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। তবে এটিও বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম।
টিম কুক বলেন, উন্নত চিপ উৎপাদন প্রযুক্তির সীমিত সরবরাহের কারণে কোম্পানিকে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিশেষ করে অ্যাপল সিলিকন চিপের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তৃতীয় প্রান্তিকে আইফোনের শক্তিশালী বিক্রি ইতিবাচক হলেও আগামী মাসগুলোতে এই ধারা বজায় থাকবে কি না, সেটিই এখন বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। সেপ্টেম্বরে নতুন আইফোন উন্মোচনের সময় মূল্যবৃদ্ধি হলে বাজারের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, সেদিকেও নজর থাকবে।