গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যাংকিং খাতের জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে গত বছর দেশের শিল্পখাতের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সুখবর এসেছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫ অনুযায়ী, টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, চীনের বাজার অংশীদারিত্ব এখনও এতটাই বিশাল যে অন্য দেশগুলো সেই অনুপাতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। তিনি জানান, এ কারণেই বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান এখনও অনেক বড়। চীনের রপ্তানি যেখানে ১৫৫ থেকে ১৫৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে, সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩৮ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।
ডব্লিউটিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি। তবে বৈশ্বিক বাজারে মোট রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ, আর ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ, যা ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, ভিয়েতনাম কিন্তু খুব দ্রুত এগিয়ে আসছে। আবার এদিকে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা আছে—এরাই তো মূল প্লেয়ার। কম্বোডিয়াও আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে। তার মানে হলো যে, বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়, এটিকে ধরে রাখতে হবে আরও বেশ কিছুদিন। অন্তত এই জায়গাটা যেন কেউ না নিয়ে যায় এবং আরও দ্রুত আগোতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের অটোমেশনটা দরকার।
মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশের যে ৩৮ বা ভিয়েতনামের ৩৭, এইযে বাকি যে ব্যবসা আছে, এখানেও কিন্তু কম-বেশি সবই আসলে চায়না থেকেই আসছে, শ্রমটা বাধে।
বছর ব্যবধানে রপ্তানি কমলেও বরাবরের মতই তৈরি পোশাকে এখনো শীর্ষ অবস্থানে চীন চতুর্থ স্থানে ভারত ও পঞ্চম তুরস্ক।