বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ফ্যাসিবাদী আমলের দীর্ঘ অন্ধকার যুগ পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। তাদের চলমান আন্দোলন সরকার পতনের জন্য নয়, বরং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি গোটা বাংলাদেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করেছিল। হাজার হাজার যুবককে গুম ও খুন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকারের চেয়ে একটি ভিনদেশের স্বার্থ রক্ষা করাই ছিল ওই সরকারের প্রধান এজেন্ডা।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের চেতনা রক্ষা এবং গণভোটের রায় কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে শুধু বর্তমান সরকার বা বিএনপি নয়, দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই ভবিষ্যতে জনগণের কাছে দায়ী থাকতে হবে।
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। তবে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এর ফলে তার ভোটের আসন থেকে সংসদে কথা বলার অধিকারও পরিকল্পিতভাবে রুদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থে তারা বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি গণভোটের রায়ের মাধ্যমে দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গণভোটের রায় মেনে নিন, আমরা রাজপথ থেকে সরে যাব।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদি, জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।