মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল অনুমোদনের পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। অনুমোদনের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রজ্ঞাপন জারির আগে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক যাচাই করা হচ্ছে। খসড়া প্রস্তুতের পাশাপাশি আইনি ও প্রশাসনিক বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব কাজ শেষ হলে প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘পে স্কেল বাস্তবায়নের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ এগোচ্ছে। এ কারণে এটি বাস্তবায়ন হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।’
নতুন পে স্কেল শুধু বেতন বাড়ানোর একটি সিদ্ধান্ত নয়। বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি কর্মচারী ও আলাদা প্রতিষ্ঠানের জন্য কীভাবে এটি কার্যকর হবে, সেই বিষয়গুলোও প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করতে হবে। এ কারণেই খসড়া তৈরির পর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি দিক যাচাই করা হচ্ছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানভেদে পাঁচটি পৃথক বিশেষ আদেশ বা এসআরও জারি হতে পারে। জনপ্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধার বিষয়ও এতে আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। এসব বিষয় সমন্বয় করছে উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি।
সরকারি কর্মচারীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। তখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করতে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল। এর আগে সংশ্লিষ্ট বেতন কাঠামোর আইনি, প্রশাসনিক ও অন্যান্য বিষয় যাচাই করা হয়েছিল।
তবে এবার ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা তৈরি হয়। ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও প্রজ্ঞাপন না আসায় এখন সেই অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে।
নতুন কাঠামোয় বর্তমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার কথা রয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সচিব কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের পর মন্ত্রিসভা পে স্কেল অনুমোদন করেছে। এখন অনুমোদিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।
সাবেক সচিব এ কে এস এম আব্দুল আউয়াল মজুমদারের মতে, প্রজ্ঞাপন তৈরির সময় আইনি ভাষা ও বিভিন্ন পরিভাষা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পে স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত সংবিধিবদ্ধ আদেশগুলোও পরীক্ষা করতে হয়।
তার মতে, পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তবে সরকার চাইলে একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিবর্তে দুই বা তিন বছরে ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদেরও বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সময় মেনে নেওয়া উচিত।
এদিকে নির্বাচনী ইশতেহারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য ‘ওয়ান র্যাংক, ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। তবে ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় এ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।