আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এক প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী ও মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইযহার, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ইউসুফ আলী ও মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং বাংলাদেশকে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ১১ দল ভূমিকা পালন করে আসছে। জনগণের দাবি নিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম প্রথম লংমার্চে আশাতীত সাড়া পাওয়া গেছে। জনবান্ধব ইস্যু হওয়ায় জনগণ এতে সাড়া দিয়েছে।
তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
ড. হামিদুর রহমান জানান, ওই দিন সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জমায়েত এবং সকাল ৮টা পর্যন্ত উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরে লংমার্চ রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লংমার্চ অব্যাহত থাকবে। আমাদের ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। নতুন করে দুর্নীতি, দখলদারি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি যুক্ত হয়েছে। কারণ এসব বিগত ফ্যাসিস্ট আমলকে ছাড়িয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সংসদে নোটিশ দিয়ে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু সরকার প্রথম দিনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়কে উপেক্ষা ও প্রত্যাখ্যান করেছে। এটি গণতন্ত্রের ওপর চপেটাঘাত এবং গণরায়ের প্রতি অবজ্ঞা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের জ্বালানি ও সার সংকট প্রসঙ্গে ড. হামিদুর রহমান বলেন, সরকার তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন করতে পারেনি। সংকট মোকাবিলায় বিরোধীদলীয় নেতা একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। বরং সংকটের কৃত্রিম অজুহাত দেখিয়ে তেলের দাম বাড়িয়েছে। এতে তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে একের পর এক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। কোনো সংকট সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলায় সরকার বারবার যে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, তা জাতির কাছে স্পষ্ট। গত ছয় মাসে সংকট নিরসনে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার ‘সিঙ্গেল ট্র্যাকে’ চলছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ।
সার সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে সার সংকট কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। এর ফলে গোটা জাতি খাদ্য সংকট ও ভোগান্তিতে পড়তে পারে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এ সরকারের আমলে হুহু করে বেড়েছে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিংয়ে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। খুন, গুম ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। বিরোধী দলের ওপর হামলা করা হচ্ছে। জামায়াতের পাঁচ নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে। এসবের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদে আলোচনা এবং রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি দুর্নীতি দমনের কথা বলেছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পরও দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ হয়নি। এতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে এবং দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন হলেও সরকার বিরোধী দলের কোনো প্রস্তাবই আমলে নিচ্ছে না। সংসদে সংকটের সমাধান না হওয়ায় ১১ দল রাজপথে নেমেছে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে লংমার্চ ও সংশ্লিষ্ট পথসভাগুলো সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।