কেউ যেন নতুন করে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে এবং বিদায়ী ফ্যাসিস্ট যেন ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে ‘ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)’ আয়োজিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশের পথ ধরে হাঁটতে চাই, এই বাংলাদেশে ফ্যাসিজম যাতে আর পুনর্বাসিত না হয়, আমরাও যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারি– সেরকম একটি রোডম্যাপ আমরা তৈরি করি। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়।

যারা অন্ধ হয়ে আছেন, ফ্যাসিস্টের খুন-খারাবি দেখছেন না, তাদের বলব– চোখ খুলুন। আল্লাহ প্রদত্ত দুটি চোখ খুলুন, সেটা যদি না পারেন, তাহলে অন্তর্চক্ষু খুলুন। আপনারা দেখতে পাবেন।’

জুলাই অভ্যুত্থান ও দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি স্মরণ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৯৯.৯% এর বেশি মানুষের চোখে আলো আছে।

কিন্তু যাদের চোখে আলো আছে, যাদের দেশ গঠন করার কথা, মানবিক মূল্যবোধের কথা বলার কথা– তারা কেউ চোখে দেখছেন না। তারা আত্মকেন্দ্রিকতায় ভুগছেন। মুখোশ নিয়ে আমরা যেভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি, সেখানে দেখতে পাচ্ছি না– ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবের সময় পাখির মতো গুলি করে ১৪০০ মানুষকে রাস্তায় দিনদুপুরে হত্যা করা হয়েছে। ৩০ হাজারের মতো মানুষ– কেউ হাত হারিয়েছে, কেউ পা হারিয়েছে, কেউ মাথা হারিয়েছে। এখনো মানুষের মুখোশধারী অনেকের চোখ আছে, আলো আছে, তারা বলে এগুলো কিছু হয়নি। তারা এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের জন্য চেষ্টা করছেন।’

গণঅভ্যুত্থানে শিশুদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী যোগ করেন, ‘জননী ও জন্মভূমির থেকে আপন কিছু নাই। কখনো কখনো জন্মভূমি জননীর থেকেও বড় হয়ে দাঁড়ায়। আর দাঁড়ায় বলেই জুলাই যুদ্ধে গিয়েছিল ১০ বছরের শিশু আনাস, তার মাকে চিঠি লিখে গেছে– ‘মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। পঙ্গু ছেলে যদি মিছিলে যেতে পারে, অন্ধ ছেলে যদি মিছিলে যেতে পারে, তাহলে আমি কী করে বাসায় বসে থাকি? আমি যদি মিছিল থেকে না ফিরে আসি, আমাকে ক্ষমা করে দিও। একদিন আমার জন্য তোমার গর্ববোধ হবে।’ ১০ বছরের শিশু তার বিবেকের তাড়নায় মিছিলে গিয়েছিল বাংলাদেশকে মুক্ত করতে, জন্মভূমিকে স্বাধীনতার স্বাদ দিতে, গণতন্ত্রের স্বাদ দিতে, আইনের শাসনের স্বাদ দিতে।’

সরকারের জবাবদিহিতা ও নাগরিক দায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি অপরাধ করি, আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে এটা আপনার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। সুতরাং আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, সেখান থেকে যদি আমাদের চোখ খুলে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজ করি, তাহলে হয়তো বাংলাদেশ একদিন সুকান্তের ভাষায় ‘শিশুর বাসযোগ্য ভূমি’ হিসেবে গড়ে উঠবে। আর যদি ব্যর্থ হই, তাহলে হেলাল হাফিজের ভাষায় ‘আমরা উত্তম পুরুষের ব্যর্থতার প্রতীক’ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকব।’

ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লে. জেনারেল (অব.) এম নুরুদ্দীন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সিলর এসরাফিল আমির গিয়াজুদ্দিন, ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মাদ মারুফ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।