জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে ‘জাকসু হেলথগিয়ার ইনিশিয়েটিভ’ (JUCSU HealthGear Initiative) শীর্ষক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে অসুস্থ শিক্ষার্থী ও জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন হলের সিক অ্যাটেনডেন্ট, জাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা (Basic First Aid & Emergency Response), সিপিআর ও এইডি প্রশিক্ষণ (CPR & AED Training), ক্ষত পরিচর্যা ও রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ (Wound Care & Bleeding Control), ফ্র্যাকচার ও দগ্ধ ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা (Handling Fractures & Burns) এবং ফার্স্ট এইড কিট ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার (First Aid Kit Management & Usage) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ব্যবহারের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম হিসেবে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র (Sphygmomanometer), স্টেথোস্কোপ, নেবুলাইজার, ওজন মাপার যন্ত্র ও থার্মোমিটার বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “জাকসু যে আয়োজনটি করেছে, তা সত্যিই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। তবে এটির গুরুত্ব ভিন্ন। এজন্যই বলি—খেলার মাঠে কোনো একজন খেলোয়াড় কিংবা হলে কেউ যদি কখনো এ ধরনের বিপদে পড়ে, ডাক্তারের কাছে পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার একটি ব্যবস্থা থাকা জরুরি। অন্তত প্রাথমিক ধারণা থাকা দরকার—কোন চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত, কীভাবে নিয়ে যাওয়া উচিত কিংবা কীভাবে তাকে ধরে যত্নসহকারে ডাক্তারের কাছে নেওয়া উচিত। এইটুকু জ্ঞান থাকা খুবই জরুরি।”

জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “আমাদের বাড়ি ছেড়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমরা যে আরেকটি পরিবারের অংশ হই এবং সেই পরিবারে বিভিন্ন আবাসিক হলে যারা ‘সিক বয়’ হিসেবে যাদেরকে আমরা চিনি, তারা আমাদের সেই পরিবারের অভাবটি ভুলিয়ে দেন। আমি মনে করি, প্রত্যেক হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত যারা আছেন, তারা শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার সময় সেই ভূমিকাটি পালন করেন। কিন্তু তাদের একটি অভিজ্ঞতার ঘাটতি ছিল। আমরা তাদেরকে হয়তো বিভিন্ন সময় রুমে খাবার আনা-নেওয়া অথবা অন্য কোনো কাজের জন্য ডেকেছি; কিন্তু তারা যে আমাদের শিক্ষার্থীদের সেই ক্রাইসিস মোমেন্টে সেবা দেওয়ার জন্য নিয়োজিত থাকেন, সেই বিষয়টি অনেকেরই জানা থাকে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের জাকসুর পক্ষ থেকে বিভিন্ন হলের যেসব মেডিকেল ইকুইপমেন্ট দেওয়া হয়েছে, আমরা আশা করব, হল সংসদে যারা আছেন, আপনারা স্বাস্থ্য সম্পাদকের তত্ত্বাবধানে এই বিষয়গুলোর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাদের শেখাবেন। যদি একজন শিক্ষার্থীও আজকের আমাদের এই কর্মসূচি থেকে, মেডিকেল ইকুইপমেন্টগুলো থেকে উপকৃত হয়, তাহলে আমরা মনে করব, আজকের আমাদের এই কর্মসূচি সফল হয়েছে।”

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “একটা দীর্ঘ সময় আপনারা এখানে ছিলেন, আজকে বন্ধের দিন। এই টাইম ইনভেস্টমেন্টটা আপনাদের জন্য বৃথা যাবে না, ইনশাআল্লাহ। যে লেসনগুলো আমরা এখান থেকে নিয়েছি, এগুলো যদি আমাদের হলে প্র্যাকটিক্যালি ইমপ্লিমেন্ট করতে পারি, আমাদের যেকোনো মুহূর্তে জীবন বদলে যাওয়ার মতো কাজ হতে পারে। কারও যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রথম পাঁচ মিনিটে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে লেসনগুলো আমরা এখানে আজকে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, এগুলো যদি ইমপ্লিমেন্ট হয়, হয়তো কোনো বড় দুর্ঘটনা থেকে কোনো একজন ব্যক্তি বেঁচে যেতে পারে। সে জায়গা থেকেই আমাদের সার্থকতা।”

জাকসুর আয়োজনে রিদম বাংলাদেশ ট্রাস্ট, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইনভেন্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্যাম্পাসে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।