বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বিতর্ক বিভাগ আয়োজিত ‘৩৬ জুলাই জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
দেশের ১৬টি অঞ্চল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও অনার্স সমমানের প্রতিষ্ঠানের ১০৪টি দল অংশ নেওয়া এই প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক পর্ব পেরিয়ে জাতীয় পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩২টি দল।
জাতীয় পর্বে চারটি ট্যাব রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হয় সেরা দুটি দল। ফাইনালে বিতর্কের বিষয় (মোশন) ছিল—
"এই সংসদ, বিরোধী রাজনৈতিক জোট হিসেবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর গণআন্দোলন গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেবে।"
ফাইনালে বিরোধী দল মোশনের বিপক্ষে শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করে। বিচারকদের রায়ে মোশনের প্রস্তাব গৃহীত হয়নি এবং রুয়েট ডিবেটিং ক্লাব (RUET DC) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, "আমাদের ডিবেটই একটি ওয়ার। তোমরা আগামীতে পার্লামেন্টে গেলে সেই পার্লামেন্ট আরও সমৃদ্ধ হবে। দেশ অনেক বুদ্ধিদীপ্ত পার্লামেন্টারিয়ান পাবে।"
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, "আমরা প্রতি বছর হাজার হাজার বিতর্কের আয়োজন করি। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই জাতীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।"
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "ডিবেট করার সময় বিচারকদের সমালোচনা খারাপ লাগত। পরে নিজে বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বুঝেছি, বিচারকের দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি আরও বলেন, "নিয়মিত পড়াশোনা ছাড়া বিতর্কে টিকে থাকা সম্ভব নয়। একজন বিতার্কিকের জ্ঞান, তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপন এবং বিশ্লেষণী সক্ষমতাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। বিতর্ক একটি শিল্প। যারা বিতর্ক করেন, তারা নিজেদের সবসময় আপডেট রাখার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।"
ফাইনালের মোশন প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম বলেন, "আজকের বিতর্কে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো পূর্বধারণা ছিল না। জুলাইয়ের ঘটনাও হঠাৎ ঘটেনি; এর পেছনে একটি স্পিরিট কাজ করেছে। নিজেদের বক্তব্য যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে উপস্থাপন করতে বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।"
আয়োজকরা জানান, জাতীয় পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ বিতার্কিকরা যুক্তি, বিশ্লেষণ এবং তথ্যভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপনার দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিযোগিতার সমাপনীতে বিজয়ীদের মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থ পুরস্কার বিতরণ করা হয়।