স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শিক্ষা উপকরণে রূপান্তরের উদ্যোগকে নগর উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, “যে বর্জ্য ছিল ঢাকার বোঝা, সেই বর্জ্যই এখন শিক্ষা উপকরণে পরিণত হয়েছে।”
গতকাল বুধবার সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী হস্তান্তর করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
উপহার হিসেবে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন পরিচালনার জন্য একটি ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার, ল্যাবরেটরিতে ব্লাড টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট এবং হাসপাতালের বেডের জন্য ম্যাট্রেস হস্তান্তর করা হয়।
পরিদর্শনকালে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি। এ সময় কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে তৈরি পরিবেশবান্ধব কলম বিতরণ করা হয়।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, নগরীর বর্জ্যকে শুধু সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না; সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটিকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। বর্জ্য থেকে পরিবেশবান্ধব কলম তৈরির উদ্যোগ তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
তিনি বলেন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্যকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে কাগজ, কলমসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদনের শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
‘চলো বদলে দেই ঢাকা উত্তর’Ñএই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা থাকলে জনগণের কল্যাণে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব। বর্জ্য থেকে পরিবেশবান্ধব কলম তৈরি করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সেই সম্ভাবনার একটি ছোট উদাহরণ মাত্র।
মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন।