স্টাফ রিপোর্টার
বর্ষীয়ান, মজলুম সাংবাদিক ও প্রখ্যাত লেখক আবুল আসাদ বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে নিজেদের যোগ্যতা ও সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ জাতীয় শিশু একাডেমির মিলনায়তনে কিশোরকণ্ঠ জাতীয় পাঠ প্রতিযোগিতা-২০২৫ এর জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম থেকে দশম স্থান অধিকারী প্রতিযোগীদের ক্রেস্ট, প্রাইজবন্ড ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে মোট ১০০ জন প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক মোশাররফ হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক আবুল আসাদ। প্রধান বক্তা ছিলেন কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব সিবগাতুল্লাহ, কবি জাকির আবু জাফর এবং কিশোরকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল আসাদ কিশোরকণ্ঠের প্রচার ও পাঠকসংখ্যা বাড়াতে নতুন প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক মোশাররফ হোসেন খান বলেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সকল শিশুর অন্তরে।’ তিনি বলেন, কিশোরকণ্ঠ শিশু-কিশোরদের পত্রিকা হলেও এর সঙ্গে বাবা-দাদাসহ একাধিক প্রজন্ম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশের সব কিশোর-কিশোরীর কাছে কিশোরকণ্ঠ পৌঁছে দেওয়াই তাদের প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, বর্তমানে কিশোরকণ্ঠ বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা। ভবিষ্যতে দেশের সব কিশোর-কিশোরী ও শিক্ষার্থীর হাতে কিশোরকণ্ঠ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের আরও বেশি কপি সংগ্রহ এবং অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান বক্তা কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বলেন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলাই কিশোরকণ্ঠের অন্যতম লক্ষ্য। কিশোরকণ্ঠের মাধ্যমে একজন পাঠক নিজের জীবন ও দর্শনকে চিনতে এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় শিক্ষা পায়।
তিনি বলেন, কবিতা, গল্প, কমিকসসহ কিশোরকণ্ঠে প্রকাশিত বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে নান্দনিকতা, ইসলামের মৌলিক অনুভূতি ও নৈতিক মূল্যবোধ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।
নূরুল ইসলাম বলেন, সমাজের অসহায় মানুষ ও লেখাপড়া থেকে পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জন নয়; বরং শরীর, মন ও আত্মার সুষম বিকাশ নিশ্চিত করাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
কিশোরকণ্ঠের দীর্ঘ পথচলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে পত্রিকাটি শিশু-কিশোরদের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা ও আদর্শিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিবছর লাখো শিক্ষার্থী কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা গ্রহণ করছে।
পুরস্কার বিতরণে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণের চেষ্টা করা হবে।
পরে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম থেকে দশম স্থান অধিকারী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। কিশোরকণ্ঠ জাতীয় পাঠ প্রতিযোগিতা-২০২৫-এর বিজয়ীরা হলেন—প্রথম নিশাত তাসনিম সাবা, দ্বিতীয় মো. লালচাঁদ বাদশা, তৃতীয় সাফা মারওয়া, চতুর্থ মোহাম্মদ মুরাদ হাসান সিফাত, পঞ্চম মোহাম্মদ রইসুল আখির, ষষ্ঠ মোছা. সুমাইয়া আক্তার, সপ্তম মোহাম্মদ ফরহাদুজ্জামান মিশা, অষ্টম মোহাম্মদ তানভীর রহমান সৌরভ, নবম ফাতিহা হাসান বিথি এবং দশম মোছা. মুনজেরা খাতুন।
পুরস্কার বিতরণ শেষে প্রথম থেকে দশম স্থান অধিকারী প্রতিযোগীদের নিয়ে অতিথিরা গ্রুপ ছবি তোলেন। এ সময় উপস্থিত দর্শক ও অভিভাবকরা করতালির মাধ্যমে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।