চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী। অথচ ২০২৫ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সারাদেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। এদিকে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পাসের হার কমছেই। পাঁচ বছর ধরে পাসের হারে কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। বরং প্রতি বছর পাসের হার কমছে। ২০২১ সালে যেখানে পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ, সেটি এবার প্রায় ৩১ শতাংশ কমে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারও কমেছে। ২০২৩ সালে যেখানে প্রায় ২ লাখ ৬৯ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল, এ বছর তা কমে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে ইংরেজি ও গণিতে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইংরেজিতে সবচেয়ে কম পাসের হার। এই বিষয়ে সব বোর্ড মিলিয়ে ৭৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগ। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এছাড়া ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। যা গত বছর ছিলো ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৬ হাজার ৯ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ পরীক্ষার্থী। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী। দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনসহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।

এবার সর্বোচ্চ পাসের হার ঢাকা বোর্ডে ৭১.৬৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে যশোর বোর্ডে ৬৬.২৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯.৪৮শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৫৮.৩৩ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৬৩.৬৭ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮.০৫ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫.৪২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৭.৩৯ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল বোর্ডে ৬০.৩৫ শতাংশ। মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন। কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ছিল। এবার এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। এর মধ্যে এসএসসিতে পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ, দাখিলে ৫৫.৪৯ শতাংশ এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ৫৮.২০ শতাংশ।

ভোকেশনাল ও দাখিলের ফল: কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের Result কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠান কোড ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল শিট ডাউনলোড করা যাবে। এ ছাড়া result.bteb.gov.bd, educationboardresults.gov.bd ও eduboardresult.gov.bd ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে গ্রেডভিত্তিক ট্রান্সক্রিপ্ট পাওয়া যাবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইট bmeb.gov.bd -এর ‘অনলাইন সেবা-০১’ কর্নারে গিয়ে ‘দাখিল পরীক্ষা ২০২৬’-এ ক্লিক করেও ফল জানতে পারবে। এ ছাড়া ebmeb.gov.bd ওয়েবসাইটে ‘ DakhileRPS ২০২৬’ নির্বাচন করে ‘ Continue’ বাটনে ক্লিক করলে জেলার কেন্দ্রভিত্তিক মাদ্রাসার ফলাফল শিট ডাউনলোড করা যাবে।

পরীক্ষা শেষের প্রায় তিন মাস পর ফল: এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে। সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হলো।

পাসের হার, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা: এসএসসি ২০২৬ সালের পরীক্ষায় এগিয়ে থাকার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে মেয়ে শিক্ষার্থীরা। বিগত বছরের মতো এ বছরও তারা পাসের হারে বেশ এগিয়ে রয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ বছর এসএসসির ৯টি সাধারণ বোর্ড, মাদরাসা বোর্ড ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থী পাস করেছে।

গত পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করেও একই চিত্র দেখা গেছে। ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৭১ দশমিক ০৩ শতাংশ মেয়ে এবং ৬৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থী পাস করেছে। ২০২৪ সালে ৮১ দশমিক ৫৭ শতাংশ ছেলে এবং ৮৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ মেয়ে পরীক্ষার্থী পাস করে। ২০২৩ সালেও একই মেয়েরা পাসের হারে এগিয়ে ছিল। ওই বছর ৮১ দশমিক ৮৮ শতাংশ মেয়ে এবং ৭৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ ছেলে পরীক্ষার্থী পাস করে।

এদিকে জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকেও মেয়েরা এগিয়ে। ২০২৬ সালের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছর মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ৭ দশমিক ০১ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছে ছাত্রীরা। তাদের মোট সংখ্যা ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন; অন্যদিকে ছেলেদের মধ্যে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মোট সংখ্যা ৫২ হাজার ৭৮০ জন।

পাস ও জিপিএ-৫-এ এগিয়ে ঢাকা: ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে পাসের হারের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বোর্ড। জিপিএ-৫ পাওয়ার শতকরা হারের দিক থেকে রাজশাহী বিভাগ এগিয়ে থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে ঢাকা। সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে পাসের হারে তলানিতে রয়েছে ময়মনসিংহ বোর্ড। তবে পাস এবং জিপিএ দুটিতেই ধস নেমেছে মাদরাসা বোর্ড।

ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, কারিগরি বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

জিপিএ-৫ পাওয়ার হারের দিক থেকে এ বছর রাজশাহী বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। তাদের পরেই রয়েছে ঢাকা বিভাগ। তবে ঢাকা বিভাগে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা বেশি। এই বোর্ডে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, অন্যদিকে রাজশাহীতে ১৬ হাজার ১১৩ জন পেলেও তা মোট অংশগ্রহণকারীর ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। এছাড়া দিনাজপুর বোর্ডে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন, যশোর বোর্ডে ১১ হাজার ৪৭৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯ হাজার ৮১৪, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯ হাজার ৩৯৮, মাদরাসা বোর্ডে ৬ হাজার ৭১৬ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫ হাজার ৭০০ জন, কারিগরি বোর্ডে ৩ হাজার ৯৫১ জন, সিলেট বোর্ডে ৩ হাজার ৮৩৬ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ২ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

মাদরাসার ফলাফলে বড় ধস: ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মাদরাসা বোর্ডের ফলাফলে বড় ধস নেমেছে। এ বছর পাসের হার মাত্র ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ফলাফল অনুযায়ী, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল এ বছর প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালে যেখানে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ, তা এ বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশে। ২০২৪ সালেও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল ছিল ৭৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তার আগের বছর ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়।

শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। আমার ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত শতভাগ ফেলের সংখ্যা এর পাঁচ গুণ ছিল। সে হিসেবে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে ক্রমান্বয়ে সেটাকে উন্নত করেছিলাম। বর্তমান সরকারও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ডেকে জিজ্ঞাসা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য একটি সিস্টেম রয়েছে এবং সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়নে কাজ করা হবে।

গণিত-ইংরেজিতেই হোঁচট খেলেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী: ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে ইংরেজি ও গণিতে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইংরেজিতে সবচেয়ে কম পাসের হার। এই বিষয়ে সব বোর্ড মিলিয়ে ৭৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগ। এই বিভাগে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এরপরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, যেখানে ৬৯ দশমিক ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে বরিশালেও পাসের হার ইংরেজিতে কম। গণিতেও পাসের হার কম। সব বোর্ড মিলিয়ে এই বিষয়ে ৭৬ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী গড়ে পাস করেছে। এই বিষয়টিতেও সবচেয়ে খারাপ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগ। পাস করেছে ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী। অন্যদিকে মাদরাসা বোর্ডে ৬৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, দিনাজপুরে ৭১ দশমিক ০৫ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৭৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ৭৭ দশমিক ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে পাস করেছে। অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় শিক্ষার্থীরা গড়ে তথ্যপ্রযুক্তি এবং বাংলায় ভালো করেছে।

পাঁচ বছরে এসএসসির পাসের হার কমছেই: এসএসসির পাসের হার কমছেই। পাঁচ বছর ধরে পাসের হারে কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। বরং প্রতি বছর পাসের হার কমছে। ২০২১ সালে যেখানে পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ, সেটি এবার প্রায় ৩১ শতাংশ কমে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এ বছর ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। ২০২২ সালে ১৯ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী পাস করে, যার হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২৩ সালে পাসের হার প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায়। সে বছর পাস করে ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে আবার তা ৪ শতাংশ বাড়ে। সে বছর ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করে। ২০২৫ সালে ফলাফলে বড় ধস নামে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৮৩ শতাংশ থেকে কমে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। এ বছর মোট ১৯ লাখ ৪ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও পাস করে মাত্র ১৩ লাখ ৩ হাজার শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালে এসে এই সংখ্যাটি আরও কমেছে।

পাসের হারের পাশাপাশি কমেছে জিপিএ-৫: ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারও কমেছে। ২০২৩ সালে যেখানে প্রায় ২ লাখ ৬৯ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল, এ বছর তা কমে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন জিপিএ-৫ পায়। পরের বছর ২০২৩ সালে তা কমে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জনে এসে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ কমে ১ লাখ ৩৯ হাজারে এসে দাঁড়ায়। এ বছর যা আরও প্রায় ২২ হাজারের বেশি কমেছে।

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১১ আগস্ট থেকে: ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামীকাল ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত অনলাইন মাধ্যম, এসএমএস অথবা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবে।