"মেধার কোনো ভিসা লাগে না। মেধাবীরা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেতে পারে। আমাদের দেশ থেকে ব্রেইন ড্রেন হয়ে যেত, কিন্তু আজকের এই প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রয়োজন 'রিভার্স ব্রেইন ড্রেন'। যারা বিদেশে গিয়েছে, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে দেশের মাটিতে কাজ করতে হবে, মানবসম্পদের উন্নয়ন করতে হবে।"
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
শিক্ষাজীবনে শিক্ষকদের ত্যাগের উদাহরণ টেনে শিক্ষামন্ত্রী নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, "আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে গেলে আর আসত না। কিন্তু তাকিয়ে দেখো, তোমাদের সামনে যারা শিক্ষক হিসেবে বসে আছেন, তারা বিদেশে শিক্ষকতা করেছেন, বিদেশে পড়াশোনা করেছেন—তারপরও দেশে এসেছেন দেশকে ভালোবেসে।" তিনি সময়কে কাজে লাগিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান এবং কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স' হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. মাহ্দী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক প্রফেসর ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথি।
উপাচার্য বলেন, সাধারণ মেহনতি মানুষ ও কৃষকদের ট্যাক্সের টাকায় অর্জিত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নবীনদের রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আগামী দিনে এই মেধাবী শিক্ষার্থীরাই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর ডিজিটাল লিটারেসি, কমিউনিকেশন স্কিল ও ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের মতো সফট স্কিল উন্নয়নে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুতই প্রশিক্ষণ শুরু করা হবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আর্থিক সুবিধাসহ ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো ক্যাম্পাসকে হাই-স্পিড ওয়াইফাই এবং ডিজিটাল ক্লাসরুমের আওতায় এনে দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রান্তিক বা পিছিয়ে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দুটি পর্বে বিভক্ত এই জমকালো অনুষ্ঠানে থিওলজি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের দুই সহস্রাধিক নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। দিনটি উপলক্ষে সম্মাননা স্মারক প্রদান, নবীন শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নবীনবরণ সম্পন্ন হয়।