গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে শনিবার (১ আগস্ট) যশোরের মনিহার চত্বরে এক বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশকে ঘিরে মনিহার চত্বর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, "জনগণের মতামতই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। গণভোটে জনগণ যে রায় প্রদান করেছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।" তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টেকসই হতে পারে না। জনগণের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে ন্যায়বিচার, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো প্রয়োজন। তিনি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং সকল রাজনৈতিক শক্তিকে জাতীয় স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস ও রেজাউল করিম, প্রচার সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক নূর-ই-আল মামুন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা এবং জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের, জয়নাল আবেদীন, গোলাম মোরশেদ, ফজলুল হকসহ জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল মনিহার চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হলে মিছিলটি নির্ধারিত স্থানে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হলে গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। তারা দাবি করেন, জনগণের সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়ন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।