বগুড়ায় নিজ কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে মো. আঃ খালেক নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। জরিমানার এই টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) বেলা ১১টায় বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মারুফ হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি আঃ খালেক শেরপুর উপজেলার দ্বারকীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আঃ খালেক তার কিশোরী মেয়েকে (১২) নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। তদন্ত চলাকালে আসামি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, কোনো বাবার কাছে যদি তার সন্তান নিরাপদ না থাকে, তবে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন। সমাজে যেন এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং নাবালিকা শিশুরা নিরাপদ থাকে, তা নিশ্চিত করতেই আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে, যা সামাজিক কাঠামো রক্ষা ও অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে।
বগুড়ার শেরপুর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও বর্তমান কোর্ট ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালের ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সত্যতা পেয়ে পুলিশ দ্রুত চার্জশিট দিয়েছিল। আদালত তার উপযুক্ত বিচার করেছেন। রায় ঘোষণার পর আসামিকে সাজাপরোয়ানা মূলে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী কিশোরী সাজাপ্রাপ্ত মো. আঃ খালেক ও তার প্রথম স্ত্রীর সন্তান। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর আঃ খালেক আরও দুটি বিয়ে করেন। সেই সৎমায়েদের সাথেই থাকত ভুক্তভোগী কিশোরী।