গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদরাসাছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া ও হত্যার হুমকির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে মাদরাসায় যাতায়াতের পথে ইভটিজিং, গালিগালাজ ও বখাটেদের উৎপাত বন্ধ এবং মেয়েদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে শ্রীপুর উপজেলা গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভাংনাহাটি বালিকা দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হাতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’, ‘রাস্তায় ইভটিজিং বন্ধ করো’, ‘গালিগালাজ বন্ধ করো’ এবং ‘মেয়েদের রাস্তায় চলার নিরাপত্তা চাই’।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, মাদরাসায় যাতায়াতের পথে শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি, গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় বখাটেদের উৎপাত ও মাদকসেবনের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাইদুর রহমান কাজল, ছামিলি আক্তার ও ছাত্রনেতা নাঈম শেখ। তারা মাদরাসাছাত্রী ও তার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বর্ণনা
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) ঘটনার বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভাংনাহাটি এলাকার মো. সাইদুর রহমান (৫০)। অভিযোগে তিনি জানান, তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ভাংনাহাটি বালিকা দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাদরাসায় যাতায়াতের পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে ওই কিশোরীকে অশালীন কথাবার্তা বলা হয়। এর প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করে আহত এবং গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে শামীম আহাম্মেদ (৩৫), পিতা মো. শুক্কুর আলী; আবু কালাম (৪০), পিতার নাম অজ্ঞাত; এবং আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাইদুর রহমানের অভিযোগ, মেয়েকে মারধরের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে তিনি, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভুঞা বলেন, “মানববন্ধনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমি দেখছি।”