যশোর শহরের বারান্দীপাড়ায় একটি বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে চাঁদা দাবি এবং গৃহবধূকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত একাধিক মামলার আসামি জিতু (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোরে নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

নিহত জিতু শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মৃত্যুর পর মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (২২জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় জিতু গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানো হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন। তবে পথে নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শুকরান বেগম (৫২) ও তার ছেলে সুমন হোসেন (২৮) আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুকরান বেগম অভিযোগ করেন, বুধবার রাতে জিতু জোরপূর্বক তাদের বাড়িতে ঢুকে তার ছেলের কাছে চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে তার পুত্রবধূকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালানো হলে আত্মরক্ষার্থে ঘরে থাকা একটি দা দিয়ে জিতুর ওপর পাল্টা আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

নিহতের স্বজন হাসিনা বানু জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী জিতুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর তিনি মারা যান। পরে মরদেহ পুনরায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কোতোয়ালি থানার তদন্ত পরিদর্শক কাজী বাবুল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, কী পরিস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা বখতিয়ার আলীসহ কয়েকজনের ধারণা, এলাকায় দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেও এ ঘটনার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশের ভাষ্য, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।#