ইবি রিপোর্টার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা শিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদলের এক কর্মীর থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে লাঠি, চাপাতি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয় ছাত্রদল ও বহিরাগত যুবদলের নেতাকর্মীরা। ঝালচত্বর পর্যন্ত এই সশস্ত্র মহড়ার পর বাইরের সড়কেও ককটেল বিস্ফোরণ ও মোটরসাইকেল শোডাউন চালানো হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি-ছাত্রদলের হামলায় অন্তত দুজন আহত হন। এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসজুড়ে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রবেশমুখে। হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় শাখা শিবিরের হল সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে ‘বেয়াদব’ আখ্যা দিয়ে চড় মারেন ছাত্রদল কর্মী আলিনূর রহমান। আলিনূরের বিরুদ্ধে হলের অবৈধ শিক্ষার্থী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলে শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে অভিযুক্তের কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও প্রভোস্টের উপস্থিতিতে সমাধান বৈঠক শুরু হলেও উত্তেজনার মুখে তা ভ-ুল হয়ে যায় এবং পুলিশ প্রটোকলে অভিযুক্তকে উদ্ধার করা হয়।
বিকেল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বহিরাগত অস্ত্রধারীদের জড়ো করতে থাকে ছাত্রদল। পরে ক্যাম্পাসে ভিতরে ও প্রধান ফটকের সামনে মহড়া দেয় তারা। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত বহিরাগত অস্ত্রধারীদের মধ্যে যুবদলের হামিম, সানওয়ার, রাজিব, ইমন বিশ্বাস, শিমুল, সাগর খন্দকার, নাহিদ, বাধন, জিম মন্ডল, নিবিড় মন্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার, সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি হৃদয়, স্কুল শিক্ষার্থী রাইসুল ও মিকদাদের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। অস্ত্রধারীদের এই উপস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রোববার ক্যাম্পাসে উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ সকল প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকেই ক্যাম্পাসে মাইকিং করে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাই করে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিচ্ছে এবং আবাসিক হলগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিবির নেতা জুহায়ের জানান, কোনো পূর্বশত্রুতা ছাড়াই অহংকারবশত আলীনূর তাকে চড় মারে। অন্যদিকে অভিযুক্ত আলীনুর জানান, হলের টিউবওয়েলে পানি খেয়ে বের হওয়ার সময় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা, হলে আমি বলি যে ‘ভাই আপনি বেয়াদব’। সেই সময় ভাই আমারে গালি দিলে আমি একটা থাপ্পড় দিই। আগে বেয়াদব বলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমনি, জানি না।” ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন শিবিরের বিরুদ্ধে সমাধান না করে উত্তেজনার অভিযোগ তুললেও শিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি জানান, তারা ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন এবং প্রক্টর অফিসে আলোচনা করছেন।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান এবং ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানান, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন কঠোর অবস্থায় রয়েছে এবং কাউকেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না। এদিকে সার্বিক ঘটনা ও বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ তদন্তে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে, যার ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।