- ঢালাও’ ফাঁসি দেওয়া বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিলেন হাইকোর্ট
ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামীর মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামীকে খালাস ও চার আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামী হলেন সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামী হলেন উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা। খালাস পাওয়া ১০ আসামী হলেন, মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, মাকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল এবং কামরুন নাহার মনি।
গতকাল সোমবার দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। সোয়া দুই ঘণ্টাব্যাপী এ রায় ঘোষণা করা হয়। বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা পুরো রায় পড়ে শোনান। এ সময় এ মামলায় নির্বিচারে ফাঁসির রায় দেওয়ায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ওই সময়ের বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেছেন, বিচারিক আদালত এভাবে নির্বিচারে ফাঁসি দিতে গিয়ে যেভাবে প্রতিটা পরিবারের ওপর একটা ডিভাস্টেটিং ইফেক্ট (বিপর্যয়) নেমে এসেছে, এইজন্য তার বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো এবং তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হলো।
আদালতে আসামীদের পক্ষে ছিলেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। রায় ঘোষণার সময় আদালতের এজলাস কক্ষে আসামী ও ভুক্তভোগীর আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় আসামীদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।
এর আগে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামীদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) থেকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুরু করে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট ওই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। গঠিত দ্বৈত বেঞ্চটি গত ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামী ছিলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
ডেথ রেফারেন্সের জন্য নুসরাত হত্যা মামলার রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামীরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।
মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ৩৩ দিনে তদন্ত শেষ করে। এরপর বিচারিক আদালতে ৬১ কার্যদিবস বিচার চলার পর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এবার উচ্চ আদালতে সেই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো ছয় বছর আট মাস পর। সোমবার হাইকোর্টের রায় ঘোষনা করা হয়।
পর্যবেক্ষণের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, একজন বিচারকের কোনো মামলায় দণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের বিচারিক মন প্রয়োগ করা প্রয়োজন, বিচারক মামুনুর রশিদ সেই বিচারিক মন প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছেন বলে হাই কোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। তবে এ পর্যবেক্ষণ নির্দিষ্ট ওই বিচারকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, ঢালাওভাবে সব বিচারকের ক্ষেত্রে নয় বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ও বিবেচনা করবে। বিচারকদের স্বাধীনভাবে বিচার পরিচালনার বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, বিচারকরা বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ভীক থাকবেন এবং আদালতের সামনে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই বিচার করবেন। বাইরে কোথায় কে কী বলল বা কীভাবে কোনো বিষয় উপস্থাপিত হলো, সে কারণে বিচারকের রায় প্রভাবিত হতে পারে না।
হত্যার ঘটনায় ‘রহস্য’ এখনও রয়ে গেছে
আসামীপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ‘রহস্য’ এখনও রয়ে গেছে।
নুসরাতের মৃত্যুপূর্ব জবানবন্দির সঙ্গে আসামীদের সংখ্যার অমিল এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, নুসরাত মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে বোরকা পরা চারজন নারীর কথা বলেছিলেন। কিন্তু সাজা দেওয়ার সময় দেখা গেল একজন নারী আর বাকি তিনজন পুরুষ। জবানবন্দির সেই চার নারী তিনজন পুরুষ হয়ে গেল কী করে? এটা বড় একটা রহস্য হয়ে রয়ে গেল।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, সাইক্লোন সেন্টারের তিন তলার ছাদে নুসরাতের গায়ে আগুন লাগানো হলো, অথচ আশপাশের কেউ কিছু শুনল না, কেউ কোনো শব্দ পেল নাÑ একা একাই কি আগুন লেগে গেল? এই অংশের রহস্যও উদঘাটিত হয়নি।
তদন্তের গাফিলতির অভিযোগ তুলে এই আইনজীবী বলেন, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। ছয় বছর আগেও সেখানে ক্যামেরা সচল ছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা বা প্রসিকিউশন সেই ফুটেজ সংগ্রহ করে আদালতে উপস্থাপন করেনি। যদি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যেত, তবে মামলার মূল ভিত্তি এবং আমাদের যুক্তি ভিন্ন হতে পারত। ফুটেজ থাকলে স্পষ্ট বোঝা যেত কে সেখানে গিয়েছিল আর কে যায়নি।
শিশির মনির জানান, নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দির অডিও ও ভিডিও হাইকোর্টে উপস্থাপনের আবেদন জানিয়েছিলেন তারা। সেটি দেখলে নুসরাত আসলে কী বলেছিলেন তা পরিষ্কার হতো।
তিনি বলেন, আমরা ন্যায়বিচারের আশায় উচ্চ আদালতে (আপিল বিভাগ) যাব। আশা করি সেখানে এই রহস্যের উন্মোচন হবে।
বিচারিক আদালতের রায়ের কঠোর সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে এসেছে যে, বিচারিক আদালত কোনো বাছবিচার না করে ‘নির্বিচারে’ ১৬ আসামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।
আদালত মন্তব্য করেছেন যে, এমন রায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ওপর ‘বিধ্বংসী প্রভাব’ ফেলেছে।
তিনি জানান, হাইকোর্ট ওই বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনজীবী শিশির মনির এই মামলায় কামরুন নাহার মনি, সাইফুর রহমান জুবায়ের ও মোহাম্মদ শামীমের আইনজীবী ছিলেন। এদের মধ্যে মনি ও শামীম খালাস পেলেও জুবায়েরকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। জুবায়েরের সাজার বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন বলে জানান তিনি।
মিডিয়া ট্রায়ালে বিচারকদের ওপর চাপ ও গণহারে ফাঁসি দেওয়া বিপজ্জনক
চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোতে মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সামাজিক ও মানসিক চাপের মুখে বিচারকদের ‘গণহারে মৃত্যুদণ্ড’ দেওয়ার প্রবণতাকে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাছবিচার ছাড়াই এভাবে রায় দেওয়ার প্রবণতা ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের।
সোমবার নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনজীবী তাজুল ইসলাম এই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী নূরউদ্দীনের আইনজীবী ছিলেন। নিম্ন আদালত নূরউদ্দীনকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও হাইকোর্ট তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
তাজুল ইসলাম নিম্ন আদালতের রায়ের সমালোচনা করে বলেন, যেকোনো মার্ডার কেস যখন মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে সেনসেটাইজড (সংবেদনশীল) করা হয়, তখন বিচারকদের ওপর এক ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়। এই চাপের মুখে অনেক সময় বাছবিচার ছাড়াই গণহারে ফাঁসির রায় প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা অনেকগুলো মামলায় লক্ষ করেছি যে এরকম ব্যাপকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রায়ে হাইকোর্ট একটি বড় ফাইন্ডিং দিয়ে বলেছেন যে, এই ধরনের প্রবণতা বিপজ্জনক। সংশ্লিষ্ট বিচারকের আইনের জ্ঞান এবং সেন্টেন্সিং (সাজা নির্ধারণ) সম্পর্কে অভিজ্ঞতার স্বল্পতা নিয়ে হাইকোর্ট আলোকপাত করেছেন এবং ওই বিচারককে বিচার কাজ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই আইনজীবী বলেন, ১৬৪ ধারার স্টেটমেন্টের ওপর এই যে ব্যাপক নির্ভরতা, এটি ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা। বিশেষ করে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে আসামীকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। এই জুরিসপ্রুডেন্স থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে হাইকোর্ট ১৬৪ ধারার নির্ভরতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে এই সংস্কৃতি বদলাতে সাহায্য করবে।
তাজুল ইসলাম মনে করেন, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর আসামীর সাজা কী হবে, তা নির্ধারণে বাংলাদেশে আলাদা কোনো যুক্তিতর্ক হয় না, যা বিদেশের আদালতে বিদ্যমান। তিনি বলেন, এই বিষয়ে একটি ইনস্টিটিউশনাল গাইডলাইন থাকা জরুরি। বিচারকদের ওপর যাতে সামাজিক চাপ কাজ না করে এবং তারা যাতে আইন অনুযায়ী সঠিক সাজা দিতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।