কুষ্টিয়ায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও এর প্রভাব পড়ছে। কুষ্টিয়া ৬ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মানুষও বিদ্যুতের লোডশেডিং এ নাকাল।
স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
বাংলাদেশের বৃহত্তম চালকল কুষ্টিয়া খাজানগরের ব্যবসায়িকরা বলেন, এখন আমাদের অটো রাইস মিলে ধান ভাঙা চলছে। মিলে একবারে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মণ ধান সেদ্ধ হয়। এ সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো ধানের মান নষ্ট হয়ে যাবে। মানে চাল ভেঙে খুদ হয়। এ জন্য অবশ্য মিলে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর রাখা হয়। কিন্তু জেনারেটর যেভাবে চলছে, এতে আমাদের ব্যয় কোন পর্যায়ে যাবে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।
কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিরপুর জোনাল অফিস সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সাধারণত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর প্রায় এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী, পোল্ট্রী খামারী ও চাতাল মালিকরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়।
একজন বিদ্যুতের কর্মকর্তা বলেন, কাগজ-কলমে সময়সূচি থাকলেও তা বাস্তবে মানা হচ্ছে না। কারণ জেলাতে চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ না পাওয়াই সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাম্প্রতিক এমন লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়াবাসী। এর মধ্যে অনেক এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং পোহাতে হচ্ছে মানুষদের। সারাদিন এক ঘন্টা বিদ্যুৎ দিলেও ৩ ঘন্টা লোডশেডিং দিচ্ছে।
কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা বলেন, আসলে আমরা যে বরাদ্দ পাচ্ছি সেই বরাদ্দে সব এলাকায় বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই লোডশেডিং হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও কমে আসবে। এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে এমন লোডশেডিং চলতে থাকায় দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।