জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান উদ্দিন (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) ও মোহাম্মদ বখতিয়ার ইসলাম (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ)-এর ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ও হামলার সাথে জড়িতদের শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন জবির  ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচি শেষে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দিনের নিকট চার দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস চলে, প্রশাসন কী করে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, ৪ আগস্টের ছাত্রদলের হামলায় আহত দুই শিক্ষার্থীর ওপর শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্তকরণ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ বখতিয়ার ইসলাম বলেন,"যখন আমাদের ওপর হামলা হচ্ছিল তখন আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। আমাকে দেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জাফর আহমেদ বাঁশ নিয়ে তেড়ে আসেন এবং আমার ওপর হামলা চালান। ওই হামলার কারণেই আমি কিডনিতে গুরুতর আঘাত পাই।

এছাড়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমানের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন জবি ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল। ওই হামলায় নোমানও গুরুতর আহত হন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, ৪ আগস্টের সহিংস ঘটনায় বিভাগের দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। তাই ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

স্মারকলিপিতে চারটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করে স্থায়ী বহিষ্কার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীল পরিবেশ ও সহিংসতার দায় স্বীকার করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন ও একাডেমিক সহায়তা প্রদান এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নাসির উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মানববন্ধন করেছে এবং পরে প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করেছে। তাদের বক্তব্য আমরা শুনেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইউজিসির চেয়ারম্যানের সামনে ইনকিলাব মঞ্চ ও জকসুর নেতাকর্মীরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

এ সময় প্রশাসনের বাধার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান উদ্দিন ও মোহাম্মদ বখতিয়ার ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য তাদের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও তাদের ওপর ছাত্রদল হামলা চালায়। 

এ ঘটনার বিচার, দোষীদের শাস্তি এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতেই ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করেন।