যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। এবার বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পয়েন্ট।

একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৪১৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ৯৪১ জন। এর আগে ২০২৪ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী।

সোমবার সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস. এম. হোসেন আলী ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আবদুল মতিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দুর্বলতার কারণেও পাসের হার কমেছে। তিনি বলেন, উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কাউকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে এবং ২০২৬ সালে আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট।

জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালে ২০ হাজার ৭৬১ জন, ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ৪১৯ জন এবং চলতি বছর ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলে ৩৯ হাজার ৬৩৪ জন এবং মেয়ে ৪৮ হাজার ৪৬৩ জন।

অপরদিকে, ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২ হাজার ৫৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৩১৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলে ছিল ৪৬ হাজার ৫৮৭ জন এবং মেয়ে ৫৫ হাজার ৭৩২ জন।